চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. রুহুল আমিনকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া এবং কর্মীদের বাঁশের লাঠি ব্যবহারে উৎসাহিত করার অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির প্রধান এবং জীবননগর সিভিল জজ আদালতের বিচারক নাসির হুসাইন মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এই নোটিশ জারি করেন।
জানা গেছে, গত ১২ জানুয়ারি দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গায় এক দলীয় কর্মশালায় বক্তব্য দেন রুহুল আমিন। সেখানে তিনি নির্বাচনে জয়লাভের লক্ষ্যে কর্মীদের বাঁশের লাঠি তৈরি ও তাতে তেল মাখিয়ে সংরক্ষণের নির্দেশনা দেন। এই বক্তব্যকে উসকানিমূলক ও নির্বাচনি আচরণবিধির পরিপন্থী উল্লেখ করে একই দিন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন বিএনপি প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট এম এ সবুর।
নির্বাচনি অনুসন্ধান কমিটি সংশ্লিষ্ট ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনার পর অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে। কমিটির নোটিশে বলা হয়েছে, রুহুল আমিনের বক্তব্যে লড়াই, রক্ত ঝরানো এবং বাঁশের লাঠি ব্যবহারের প্ররোচনা রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মনে ভয়ভীতি ও সহিংসতার আশঙ্কা তৈরি করেছে। এ কাজটি রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণবিধি, ২০২৫-এর ১৫ ও ১৬ নং বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে কমিটি উল্লেখ করে।
কমিটির পর্যবেক্ষণে বলা হয়, মো. রুহুল আমিনের বক্তব্যের ফলে জনমনে ভীতির সঞ্চার হয়েছে এবং এটি সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ বিনষ্ট করার শামিল। কমিটির মতে, প্রার্থী এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে নির্বাচনে অবৈধ প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন।
শোকজ নোটিশ প্রসঙ্গে জামায়াতের প্রার্থী মো. রুহুল আমিন দাবি করেন, তার বক্তব্যের উদ্দেশ্য কাউকে ভয় দেখানো নয়। তিনি বলেন, ভোট চুরি প্রতিহত করার জন্য এবং সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থেই আমি কর্মীদের প্রস্তুত থাকার কথা বলেছি। এটি নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের পর্যায়ে পড়ে না, বরং একটি পরিকল্পনা মাত্র।
নোটিশ অনুযায়ী, আগামী ১৯ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে মো. রুহুল আমিনকে সশরীরে বিচারিক কমিটির কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করতে হবে। তার ব্যাখ্যা যদি কমিটির কাছে সন্তোষজনক না হয়, তবে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনে সুপারিশ করা হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।