মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার নয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা দায়িত্বে না থাকায় প্রধান শিক্ষককে লাঞ্ছিতের ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারী) দুপুরে বিদ্যালয়ের শিক্ষক মিলনায়তনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেন রাতে শিবালয় থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
অভিযোগে জানা গেছে, এ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মুহাম্মাদ জাহিদুল ইসলাম (৫০) সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের একটি নির্দিষ্ট ইভেন্ট পরিচালনার দায়িত্বে তার নাম না থাকায় ক্ষিপ্ত হন। তিনি বিদ্যালয়ের মিলনায়তনে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। প্রধান শিক্ষক গালিগালাজ করতে নিষেধ করলে জাহিদুল ইসলাম উত্তেজিত হয়ে প্রধান শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বিদ্যালয়ের অপর শিক্ষক ফারুক হোসেন জানান, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনায় জাহিদুল ইসলামের নাম না থাকায় শিক্ষকদের নিকট আক্ষেপ করেন। প্রধান শিক্ষকের সাথে তিনি তর্ক-বির্তকের এক পর্যায়ে ধস্থাধস্তিতে লিপ্ত হলে উপস্থিত সবাই এগিয়ে এসে তাদের নিবৃত্ত করে।
এদিকে সিনিয়র শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়ে নানা বিষয় নিয়ে অভিযোগ থাকায় বিভাগীয় কর্মকর্তারা প্রধান শিক্ষকের কয়েক মাসের বেতন কর্তন করেছেন। এ নিয়ে তিনি হয়তো আমার উপর ক্ষীপ্ত আছেন। অনুষ্ঠানে আমার নাম বাদ দেয়ার কারণ জানতে চাওয়ায় কথা কাটাকাটি হয়েছে। তিনি এ নিয়ে অভিযোগ করবেন বলে জানান।
প্রধান শিক্ষক ইসমাইল হোসেন জানান, তিনি তার কক্ষে বসে সাংস্কৃতিক সপ্তাহ সংক্রান্ত চিঠিপত্র প্রস্তুতের কাজ করছিলেন। এ সময় শিক্ষক জাহিদুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত হন। গত বছর একটি ইভেন্টের দায়িত্ব তিনি পালন করেছিলেন। তবে এ বছর তার পরিবর্তে তিনজন সিনিয়র শিক্ষককে ওই ইভেন্ট পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিষয়টি জানার পর তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, নয়াবাড়ির মাটিতে তাকে বাদ দিয়ে কোনো অনুষ্ঠান পরিচালিত হতে তিনি দেবেন না বলেও জানান। একপর্যায়ে তিনি আমার কাছে থাকা ইভেন্ট সংক্রান্ত কাগজপত্র জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। আমি বাঁধা দিলে তিনি আরও উত্তেজিত হয়ে আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরে উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষকরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে তাকে সরিয়ে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিষা রানী কর্মকার জানান, তিনি বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন। ছুটি শেষে অফিসে যোগদান করে বিষয়টি সম্পর্কে উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।