তীব্র শীতের মধ্যেই শুরু হয় ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব-২০২৬’-এর ২৪তম আসর। প্রবল ঠাণ্ডা ও শৈত্যপ্রবাহকে তোয়াক্কা না করে অনেক সিনেমাপ্রেমীর ভিড় লক্ষ করা গেলেও খুব একটা জমেনি এবারের আসর। উৎসবে সিনেমা দেখতে আসা দর্শকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, বিনামূল্যে আন্তর্জাতিক মানের চলচ্চিত্র দেখার সুযোগই তাদের টেনে এনেছে। ‘নান্দনিক চলচ্চিত্র, মননশীল দর্শক, আলোকিত সমাজ’ এমন সেøাগান নিয়ে শুরু হওয়া উৎসবের পর্দা নামছে আজ রবিবার। উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
৯ দিনব্যাপী এ আসরে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৯১টি দেশের ২৪৫টি পূর্ণদৈর্ঘ্য, স্বল্পদৈর্ঘ্য ও প্রামাণ্যচিত্র নিয়ে সাজানো হয়। রেইনবো চলচ্চিত্র সংসদের উদ্যোগে আয়োজিত উৎসবটি বরাবরের মতোই দেশের সবচেয়ে বড় ও মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র আয়োজন হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রতিযোগিতা ও প্রদর্শনী মিলিয়ে বহুমাত্রিক বিভাগে ভাগ করা এই আয়োজন চলচ্চিত্রের নানা ভাষা, বিষয় ও দৃষ্টিভঙ্গিকে একই ছাদের নিচে আনে। এশিয়ান ফিল্ম কম্পিটিশন, বাংলাদেশ প্যানোরোমা, রেট্রোস্পেকটিভ, ওয়াইড অ্যাঙ্গেল, সিনেমা অব দ্য ওয়ার্ল্ড, নারী নির্মাতাদের চলচ্চিত্র, স্বল্প ও স্বাধীন চলচ্চিত্র, আধ্যাত্মিক চলচ্চিত্র এবং শিশুদের জন্য বিশেষ প্রদর্শনী এমন নানা বিভাগে ছড়িয়ে ছিল উৎসবের কার্যক্রম। বাংলাদেশ প্যানোরোমা বিভাগে সেরা চলচ্চিত্রকে বিশেষ পুরস্কার দেবে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সমালোচক সংস্থার বাংলাদেশ শাখা।
এবারের উৎসবে যোগ হয়েছে নতুন মাত্রা। প্রথমবারের মতো কক্সবাজারের লাবণী বিচ পয়েন্টে আয়োজন করা হয়েছে উন্মুক্ত প্রদর্শনী ‘ওপেন থিয়েটার বায়োস্কোপ’, যেখানে সাধারণ দর্শক সমুদ্রের ধারে বসে চলচ্চিত্র দেখার অভিজ্ঞতার স্বাদ গ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছেন। জাতীয় জাদুঘর, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, অলিয়ঁস ফ্রঁসেজ ঢাকা ও স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশসহ একাধিক ভেন্যুতে চলচ্চিত্র প্রদর্শিত হয়। উৎসবের অংশ হিসেবে গত ১১ ও ১২ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় দ্বাদশ ঢাকা আন্তর্জাতিক নারী চলচ্চিত্র সম্মেলন। পাশাপাশি ছিল চিত্রনাট্য উন্নয়ন কর্মশালা ও আন্তর্জাতিক অতিথিদের অংশগ্রহণে বিশেষ মাস্টারক্লাস।
উৎসব পরিচালক আহমেদ মুজতবা জামাল বলেন, ‘শুধু চলচ্চিত্র প্রদর্শন নয়, বরং আলোচনা, মাস্টারক্লাস ও শিল্পকলা প্রদর্শনীর মধ্যদিয়ে চলচ্চিত্র সংস্কৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করাই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য ছিল। সেইসঙ্গে দর্শক, নির্মাতা ও গবেষকদের মধ্যে সংযোগ তৈরি করাও ছিল এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। আমরা আমাদের কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পেরেছি। আগামীতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা চলচ্চিত্র উৎসব মানে চলচ্চিত্র দর্শকদের মিলনমেলা। এবার নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ এসেছেন সিনেমা দেখতে। ২৩তম চলচ্চিত্র উৎসবের মতো এবার চলচ্চিত্র উৎসবে ছবি দেখতে দর্শকের ঢল ছিল চোখে পড়ার মতো। আশা করছি, দর্শকের এ স্বত্বঃস্ফূর্ত উপস্থিতি উৎসবের শেষ দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। উৎসব সফল করতে সবার সহযোগিতা কামনা করছি।’
গত ১০ জানুয়ারি বিকেল ৪টায় বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে চতুর্বিংশ ঢাকা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। উদ্বোধনী চলচ্চিত্র হিসেবে প্রদর্শিত হয় চীনা নির্মাতা চেন শিয়াং পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘উ জিন ঝি লু’।