নির্বাচন কমিশন (ইসি) ঘেরাও কর্মসূচি ফের পালনের ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রদল। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হবে। রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে এ ঘোষণা দেন ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
এর আগে দিনের বেলায় নির্বাচন কমিশন ভবনে কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করে ছাত্রদলের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। ওই দলে সভাপতির পাশাপাশি ছিলেন সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহিয়া, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শ্যামল মালুম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান।
বৈঠক শেষে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে ছাত্রদল সভাপতি জানান, তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে তাদের অবস্থান তুলে ধরেছেন। কমিশনের পক্ষ থেকে বিষয়গুলো শুনে তা যুক্তিসংগতভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সে কারণে দিনের অবস্থান কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলেও দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় পরদিন আবার ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানানো হয়।
ছাত্রদল নেতৃত্বের ভাষ্য অনুযায়ী, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে তারা অনড়। একই সঙ্গে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা শুরু হওয়ার পর কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা বা পরিকল্পিত বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে সংগঠনটি প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলেও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।
ছাত্র সংসদ নির্বাচন ঘিরে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গেও নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে বলে জানান ছাত্রদল সভাপতি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, অতীতের বিভিন্ন ছাত্র সংসদ নির্বাচনের আগেও একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা সৃষ্টি করা হয়েছে। একই ধারাবাহিকতায় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন ঘিরেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করেন। এসব বিষয় কমিশন বিবেচনায় নেবে—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ তুলে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, দেশে প্রথমবারের মতো এ পদ্ধতিতে ভোট আয়োজন করা হলেও ব্যবস্থাপনায় গুরুতর দুর্বলতা দেখা গেছে। তার দাবি অনুযায়ী, ভোটের আগেই নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের একাধিক নেতার বাসায় পোস্টাল ব্যালট পৌঁছানোর ঘটনা সামনে এসেছে, যা নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিষয়টি নির্বাচন কমিশনকে জানানো হলে কমিশনও ব্যবস্থাপনার ঘাটতির কথা স্বীকার করে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছে বলে তিনি জানান।
এর আগে রবিবার বেলা ১১টা থেকেই নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। কর্মসূচিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আসা কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন। আন্দোলন ঘিরে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।