অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে ইতিহাস গড়েও প্রথম রাউন্ডেই বিদায় নিতে হলো ভেনাস উইলিয়ামসকে। ৪৫ বছর বয়সে টুর্নামেন্টের মূল ড্রতে নেমে সবচেয়ে বয়সী নারী খেলোয়াড় হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েন যুক্তরাষ্ট্রের এই কিংবদন্তি। তবে দীর্ঘ লড়াই শেষে সার্বিয়ার ওলগা দানিলোভিচের কাছে তিন সেটের ম্যাচে হেরে যান তিনি।
রবিবার মেলবোর্ন পার্কে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ওয়াইল্ডকার্ড নিয়ে খেলা ভেনাস প্রথম সেটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর টাইব্রেকে হারেন ৬–৭ (৫)। দ্বিতীয় সেটে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৬–৩ ব্যবধানে সেট জিতলেও তৃতীয় সেটে নাটকীয়ভাবে ম্যাচ হাতছাড়া হয় তাঁর। সিদ্ধান্তমূলক সেটে ৪–০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেও টানা ছয় গেম হারিয়ে ৬–৪ ব্যবধানে পরাজিত হন সাতবারের গ্র্যান্ড স্ল্যামজয়ী এই তারকা।
এই ম্যাচ খেলতে নামার মধ্য দিয়েই ২০১৫ সালে ৪৪ বছর বয়সে খেলা জাপানের কিমিকো দাতের রেকর্ড ভেঙে দেন ভেনাস। ১৯৯৮ সালে মাত্র ১৭ বছর বয়সে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে অভিষেক হয়েছিল তাঁর। এবার ছিল মেলবোর্ন পার্কে তাঁর ২২তম উপস্থিতি। এর আগে ২০০৩ ও ২০১৭ সালে ফাইনালে উঠে বোন সেরেনা উইলিয়ামসের কাছে হারতে হয়েছিল তাঁকে।
ম্যাচ শেষে হাসিমুখেই কোর্ট ছাড়েন ভেনাস। তিনি বলেন, ‘আজ কোর্টে খেলাটা আমার জন্য দারুণ এক অভিজ্ঞতা। প্রতিটি ম্যাচে আমি আগের চেয়ে ভালো খেলছি। ভুল কমিয়ে নিজের খেলাটা নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করে যেতে চাই। সে (দানিলোভিচ) দারুণ খেলেছে। এটাই খেলাধুলার বাস্তবতা।’
বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে ৬৮ নম্বরে থাকা দানিলোভিচ ম্যাচ শেষে ভেনাসের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘ভেনাস উইলিয়ামসের বিপক্ষে খেলাটা আমার জন্য বিশেষ কিছু। ৪–০ পিছিয়ে পড়ার পর নিজেকে শুধু খেলতে বলেছি। এমন একজন কিংবদন্তির বিপক্ষে খেলতে পারা সত্যিই সম্মানের।’
ভেনাসের জন্য এটি ছিল টানা পঞ্চম হার। গত বছর ওয়াশিংটনে প্রত্যাবর্তনের পর মাত্র একটি ম্যাচ জিতেছিলেন তিনি। ইউএস ওপেনেও প্রথম রাউন্ডেই বিদায় নিতে হয়েছিল তাঁকে।
তবে একক ইভেন্টে বিদায় নিলেও মেলবোর্নে দ্বৈত ইভেন্টে খেলবেন ভেনাস।