ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধের অপচেষ্টা জুলাই শহীদদের সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা: সাদিক কায়েম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশে যে চমৎকার গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, সেটিকে বানচাল করতেই একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধের চেষ্টা করছে। 

ছাত্র সংসদ নির্বাচন বন্ধ করতে কোর্টে যাওয়া, নির্বাচন কমিশনের সামনে গিয়ে মত তৈরি করা- এই ধরনের অবস্থান জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আত্মত্যাগের সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণা। যারা গণতন্ত্রের কথা বলে আজ নির্বাচন বন্ধ করতে চায়, তারা প্রকৃত অর্থেই শহীদদের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে।


সোমবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাকসু) ছাত্র সংসদ নির্বাচন চার সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।


সাদিক কায়েম বলেন, ডাকসু নির্বাচনের পর দেশের আরও পাঁচটি ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব নির্বাচন ছিল শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু। গত ১৬ বছর ধরে শিক্ষার্থীরা যে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল, সেই অধিকার তারা আবার ফিরে পেয়েছে। এসব নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দল নয়, বরং গণতন্ত্রই বিজয়ী হয়েছে।


তিনি বলেন, পরবর্তীতে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। একাধিকবার পিছিয়ে যাওয়ার পর সর্বশেষ ২০ জানুয়ারি চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে দেখলাম-যারা আমাদের সঙ্গে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে ছিল, তারাই এখন নির্বাচন বন্ধের অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে।


তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠন নির্বাচন কমিশনের সামনে দাঁড়িয়ে নির্বাচন বন্ধের জন্য মত তৈরি করেছে এবং জাতীয়তাবাদী আইনজীবীরা রিট করে চার সপ্তাহের জন্য নির্বাচন স্থগিত করিয়েছে। তিনি এ ঘটনাকে পুরো জাতির জন্য লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেন।


ডাকসুর এজিএস মহিউদ্দিন খান বলেন, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকার বাস্তবায়নের একমাত্র পথ হলো সুষ্ঠু ছাত্র সংসদ নির্বাচন। যারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে চায়, দেশ ও জাতি তাদের উদ্দেশ্য বুঝে গেছে।