ভোলায় শেষ হলো ৮ দিনব্যাপী পাখি শুমারি

ভোলায় শেষ হয়েছে ৮ দিন ব্যাপী পাখি শুমারি। বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব, স্কোপ ফাউন্ডেশন এবং বার্ড লাইফ ইন্টারন্যাশনালের যৌথ উদ্যোগে উপকূলীয় এলাকার ৫৩টি চরে এ বছর পাখি গণনা করা হয়। 

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে ভোলা সদর উপজেলার খেয়াঘাট এলাকায় এসে শেষ করা হয় এ শুমারির কার্যক্রম। এর আগে গত ১১ জানুয়ারি একই স্থান থেকে বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের রিচার্স কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ড. সায়াম ইউ. চৌধুরীর নেতৃত্বে তাদের সাত সদস্যের একটি দল ট্রলার যোগে পাখি শুমারি শুরু করেন। ৮ দিনে তারা ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী ও পটুয়াখালীর ৫৩টি চরে এ পাখি গণনা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

শীত মৌসুমে সাইবেরিয়া ও তিব্বতসহ উত্তরের বরফ প্রধান দেশগুলো বরফে ঢেকে থাকে। যার ফলে পাখিদের খাদ্য সংকটের কারণে খাবারের সন্ধানে বাংলাদেশের হাওর এবং উপকূল অঞ্চলে আসে বিপুল সংখ্যক পরিযায়ী পাখি। এ সকল পাখির জন্য ভোলা জেলা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শীতে ভোলার চারদিকে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর অসংখ্য ডুবচরে এ সকল পরিযায়ী পাখিরা দল বেঁধে বিচরণ করে থাকে। বিস্তীর্ণ ডুবোচরগুলোতে পাখিরা খাবার আহরণ করে থাকে। শীত শেষে পুনরায় তারা সে সকল দেশে ফিরে যায়। এ পাখিদের সঠিক সংখ্যা নিরূপণ ও তাদের নিরাপদ আবাসস্থল গড়ে তোলার লক্ষে বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব এ পাখি গণনা কার্যক্রম হাতে নেয়।

বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের রিচার্স কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ড. সায়াম ইউ. চৌধুরীর জানান, এ বছর অনুষ্ঠিত জরিপে উপকূলীয় মেঘনা মোহনার ৫৩টি স্থানে ৬৩ প্রজাতির ৪৭ হাজার ১৫৭টি জলপাখির অস্তিত্ব রেকর্ড করা হয়। সবচেয়ে বেশি প্রজাতি ছিল ইউরেশিয়ান উইজিওন, যার সংখ্যা ৬ হাজার ০১২টি, ব্ল্যাক-টেইলড গডউইটর দেখা মিলেছে ৪ হাজার ৪৩৪টি এবং লেসার স্যান্ড প্লোভারের দেখা মিলেছে ৩ হাজার ৯৬২টি। এছাড়াও ভোলার মনপুরার কাছে চর আতাউর, ভাসান চরের কাছে জৈজ্জার চর এবং আন্ডার চরে জলপাখির সর্বাধিক ঘনত্ব দেখা গেছে। চর আতাউরে ৬ হাজার ৪৭৯টি, জৈজ্জার চরে ৫ হাজার ৮১৪টি এবং আন্ডার চরে ৪ হাজার ৯৮৭টি পাখি ছিল। তুলনামূলকভাবে ২০২৫ সালের জরিপে ৪৮টি স্থানে ৬২ প্রজাতির প্রায় ৪৬ হাজার ০১৫টি জলপাখি রেকর্ড করা হয়েছিল। ২০২৬ সালে রেকর্ড করা উচ্চতর সংখ্যা সম্ভবত জরিপের পরিধি বৃদ্ধি এবং জলপাখির সংখ্যার প্রাকৃতিক বার্ষিক তারতম্য উভয়ই প্রতিফলিত করে।

পাখি শুমারি দলের সদস্য নাজিম উদ্দিন প্রিন্স জানান, বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব, স্কোপ ফাউন্ডেশন এবং বার্ড লাইফ ইন্টারন্যাশনালের যৌথ উদ্যোগে উপকূলীয় ৫৩ চরে এ বছর পাখি গণনা করা হয়েছে। গত ১১ জানুয়ারি ভোলার খেয়াঘাট থেকে একটি মাছধরার বড় ফিসিং ট্রলার নিয়ে যাত্রা শুরু করেন। প্রায় ৫০০ কিলোমিটার নদী পথ পাড়ি দিয়ে ১৮ জানুয়ারি সন্ধ্যায় পুনরায় একই স্থানে এসে তাদের এ কার্যক্রম সমাপ্ত করেন।

শুমারি দলে অন্যান্যদের মধ্যে ছিলেন, বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা ফা-তু-জো খালেক মিলা, বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের সদস্য মোহাম্মদ ফয়সাল প্রমুখ।