ঢাকাসহ দেশের নগরগুলোর দুরবস্থার জন্য অন্যতম কারণ সমন্বয়হীনতা ও সিটি করপোরেশনের মেয়রদের পর্যাপ্ত ক্ষমতা না থাকা। তাই নগর সরকার গঠন করে তা শক্তিশালী করার মাধ্যমে নগরের সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন নগর বিশেষজ্ঞ ও রাজনীতিবিদরা। এই সমস্যা সমাধানে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে নগর সরকার গঠন ও নগরের সমস্যাগুলো সমাধানে স্পষ্ট রূপরেখা দেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা। গতকাল সোমবার নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরাম বাংলাদেশ ও গুলশান সোসাইটির আয়োজিত ‘ঢাকা বাঁচানোর ইশতেহার’ শীর্ষক এক নগর সংলাপে তারা এসব কথা বলেন।
নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি মতিন আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে হোটেল লেকশোরে আয়োজিত এ সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন গুলশান সোসাইটির সভাপতি ব্যারিস্টার ওমর সাদাত।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, সিটি করপোরেশনের বর্তমান ক্ষমতা মূলত ময়লা পরিষ্কার এবং বাতি লাগানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ। নিজস্ব পুলিশ বাহিনী না থাকায় উচ্ছেদ অভিযানগুলো টেকসই হচ্ছে না।
বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বলেন, বর্তমানে রাজউক, সিটি করপোরেশন এবং অন্য সেবাদানকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নেই। এই পরিস্থিতি উত্তরণে একটি ‘সিটি গভর্নমেন্ট’ গঠন করা অপরিহার্য।
জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী (ঢাকান্ড১৭) ডা. এসএম খালেদুজ্জামান বলেন, রাজনীতিবিদরা ঢাকার শহর গড়ে দেবে এটা ভুলে যান। আমাদের শহর আমরা সবাই মিলে গড়ব।
এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব বলেন, ইশতেহারে ঢাকা বাঁচাতে ১০টি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার জন্য ঠিক করেছি। এর মধ্যে অন্যতম সমন্বিত সরকার ব্যবস্থা।
আরও বক্তব্য রাখেন বিআইপির ড. মুসলেহ উদ্দীন হাসান, মানারাত ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক আব্দুর রব, জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, স্থপতি রফিক আজম, মো. নুরুল্লাহ, গুলশান সোসাইটির সহসভাপতি সৈয়দ আলমাস কবির, নগর উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক হাসান ইমন প্রমুখ।