ঢাকার সাভারের ছয় হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সম্রাটের প্রকৃত নাম সবুজ শেখ (৩৫)। তার বাড়ি মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের মৌছামান্দ্রা গ্রামে। তার বাবা পান্না শেখ ও মা মমতাজ বেগম। তারা তিন ভাই ও চার বোন। সবুজ ভাইবোনদের মধ্যে দ্বিতীয়। নিজ গ্রামে ও আশপাশ এলাকায় ছিনতাই এবং চুরি করাই ছিল সবুজের প্রধান কাজ। চুরি-ছিনতাই করেই সে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে থাকত। আবার কয়েক মাস আত্মগোপনে থেকে পুনরায় গ্রামে ফিরত।
সর্বশেষ এক মাস আগেও সবুজ শেখ গ্রামের বাড়িতে এসেছিল। সে সময় দুদিন থাকার পর আবার বাড়ি ছেড়ে চলে যায়। গ্রামবাসী সবুজের পরিবার নিয়েও রীতিমতো বিরক্তি প্রকাশ করেছে। পরিবারটি প্রতিবেশীদের সঙ্গে মেলামেশা করে না।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মৌছামান্দ্রা গ্রাম ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে সাভারের আলোচিত ছয় হত্যাকাণ্ডের নায়ক সবুজ সম্পর্কে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। সরেজমিন দেখা গেছে, চারপাশে কাপড়ের প্রাচীরে ঘেরা বাড়ির ভেতরে বসবাসের জন্য একটি চৌচালা টিনের ঘর ও আরেকটি রান্নাঘর ছাড়া চোখে পড়ার মতো তেমন কোনো স্থাপনা নেই।
স্থানীয়রা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সবুজের চার বোনের মধ্যে তিন বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। এক বোন এখনো অবিবাহিত। তিন ভাইয়ের মধ্যে সবুজের অনুজ তথা মেজো ভাই ঢাকায় রঙের কাজ করেন এবং ছোট ভাই অটোরিকশা চালান।
গ্রামবাসী অভিযোগ করে, সবুজ ছিনতাই, অটোরিকশা ও সাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের চুরি করে বেড়াত নিজ গ্রাম এবং আশপাশের গ্রামে। কিছুদিন গ্রামে অবস্থান নিয়ে চুরি-ছিনতাই করত। এরপর গ্রাম ছেড়ে পালাত। কয়েক মাস গ্রামের বাইরে থাকার পর আবার ফিরে একই ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ত।
হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. সোহেল খান বলেন, সবুজ এলাকায় খুব একটা থাকে না।