কাদের সিদ্দিকীর বক্তব্য ঘিরে উত্তেজনা, তোপের মুখে ফিরে গেলেন

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের কর্মী সমাবেশ স্থগিত করে পৌর যুবদল আয়োজিত খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিলে যোগ দেন কাদের সিদ্দিকী। পৌর যুবদলের ওই দোয়া মাহফিল কাদের সিদ্দিকীর বাসা থেকে ১৫০ গজ দূরে অনুষ্ঠিত হচ্ছিল। ফলে তিনি তার দলীয় কর্মী সমাবেশ স্থগিত করে খালেদা জিয়ার সম্মানে ওই দোয়া মাহফিলে অংশ নেন। যুবদলের ওই দোয়া মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন পৌর যুবদলের আহ্বায়ক কায়সার কাশেম। বুধবার (২১ জানুয়ারি) এ ঘটনা ঘটে।

কাদের সিদ্দিকী খালেদা জিয়ার ওই দোয়া মাহফিলে খালেদা জিয়ার স্মরণে বক্তব্য দেওয়ার এক পর্যায়ে টাঙ্গাইল-৮ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এড. আহমেদ আযম খানের বিরুদ্ধে কটাক্ষমূলক বক্তব্য উপস্থাপন করলে যুবদল নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে উঠলে তোপের মুখে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন কাদের সিদ্দিকী। পরে তিনি দলীয় নেতাকর্মী নিয়ে বাসায় ফিরে যান। 

কাদের সিদ্দিকী বলেন, খালেদা জিয়ার সম্মানে আজ বুধবারের সভা স্থগিত করা হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার একই সময়ে সখীপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডের নিজ বাসভবনে কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান কাদের সিদ্দিকী। এ কথা বলে নিজ বাসায় ফিরে যান। পরে তিনি টাঙ্গাইলে চলে যান।

এদিকে টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী শিল্পপতি সালাউদ্দিন আলমগীরকে কাদের সিদ্দিকীর ওই সভায় অতিথি করা হয়। যদিও কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন অংশ নিচ্ছে না, তবুও কাদের সিদ্দিকী ইতিমধ্যে সালাউদ্দিন আলমগীরের প্রতি সমর্থন দিয়েছেন।

অন্যদিকে দুই পক্ষের কর্মসূচি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলের আশপাশে অবস্থান নেয়। 
 
নিজ বাসায় প্রায় দশ মিনিট অবস্থানের পর সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের জবাব না দিয়ে তিনি ব্যক্তিগত গাড়িতে টাঙ্গাইলের উদ্দেশে রওনা হন।

এর আগে নিজ বাসায় সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপে কাদের সিদ্দিকী বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না— এমন আশঙ্কা থেকেই তার দল নির্বাচনে অংশ নেয়নি। তবে তিনি চান নির্বাচন সুষ্ঠু হোক। কেন তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী সালাউদ্দিন আলমগীরকে সমর্থন দিচ্ছেন— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি বিএনপির বিপক্ষে নন, তবে টাঙ্গাইল-৮ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আহমেদ আযম খানের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

এর কারণ হিসেবে কাদের সিদ্দিকী অভিযোগ করেন, আহমেদ আযম খান একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার পিঠের চামড়া তুলে ফেলতে চেয়েছিলেন। এছাড়া সখীপুরের আরেক বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ মোহাম্মদ হাবীবকে আহমেদ আযম খানের লোকজন শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন বলেও তিনি দাবি করেন।

উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব নাসির উদ্দিন বলেন, কাদের সিদ্দিকী একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা তাকে সম্মান করি। কিন্তু তিনি আমাদের অনুষ্ঠানে এসে আমাদের নেতাকে অপমান করবে তা মেনে নেওয়া যায় না। তিনি নির্বাচন করছেন না। তাই তিনি নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে উঠেপড়ে লেগেছেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিকেলজুড়ে সখীপুরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।