জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে বিচার শুরু হবে কি না, তা আজ জানা যাবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ অভিযোগ গঠন নিয়ে শুনানি শেষে আদালত আজ চূড়ান্ত আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন।
ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেবেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
মামলার সাতজন আসামির মধ্যে একমাত্র ওবায়দুল কাদের দেশে রয়েছেন। অন্যরা পলাতক। পলাতক আসামিদের মধ্যে আছেন—আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগ সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান।
গত ১৮ জানুয়ারি প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আজকের দিনটি নির্ধারণ করে। শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও গাজী এমএইচ তামিম অংশ নিয়ে আসামিদের ব্যক্তিগত দায় ও ওবায়দুল কাদেরের বিরুদ্ধে আনা তিনটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরেন। এছাড়া জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময় হত্যার নির্দেশ, উসকানি ও প্ররোচনার অভিযোগও আদালতে উপস্থাপন করা হয়।
পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত (স্টেট ডিফেন্স) আইনজীবী লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহান শুনানি করেন। তারা দাবি করেন, তাদের মক্কেলদের সঙ্গে কোনো ধরনের অভিযোগের সংযোগ নেই এবং যথাযথ প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ গঠন করা উচিত নয়।
এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেন। এরপর ২৯ ডিসেম্বর গ্রেফতারের পর তাদের কোথাও পাওয়া যায়নি। ৩০ ডিসেম্বর আদালত পত্রিকায় হাজির হওয়ার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন। ৮ জানুয়ারি আত্মসমর্পণের দিন ধার্য থাকলেও কেউ হাজির না হওয়ায় স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিযুক্ত করা হয়।
আজ এই ধারাবাহিকতায় আদালত আসামিদের বিচার শুরুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে।