কার্ড দেওয়ার কথা বলে ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন দিচ্ছে: নাহিদ

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ডের সমালোচনা করে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, একদিকে তারা কার্ড দেওয়ার কথা বলছে, আরেক দিকে ঋণখেলাপিদের মনোনয়ন দিচ্ছে। যাদের মনোনয়ন দেওয়া হচ্ছে, তারা তো আবার ক্ষমতায় গিয়ে লুট করবে। জনগণের টাকা মেরে খাবে, এমন ব্যক্তিদেরই নমিনেশন দিয়েছে দলটি।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় জামায়াতে ইসলামী ঢাকা-১৫ আসনের উদ্যোগে আয়োজিত জনসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নাহিদ বলেন, যে ২ থেকে ৩ হাজার টাকার ফ্যামিলি কার্ডের কথা বিএনপি বলছে, তা কারা পাবেন? যাদের প্রয়োজন তারা পাবেন কি? নাকি ২ হাজার টাকার কার্ড পেতে এক হাজার টাকা ঘুষ দিতে হবে?

এছাড়াও, বস্তিবাসীদের ফ্ল্যাট দেওয়ার ঘোষণার সমালোচনা করে ঢাকা-১১ আসনের ১০ দলীয় জোটের প্রার্থী নাহিদ বলেছেন, মানুষ ফ্যামিলি কার্ড-ফ্ল্যাট চায় না, নিরাপদ জীবন চায়।

১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য জোটের ‘সমন্বিত প্রতীক’ হিসেবে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের হাতে দাঁড়িপাল্লা তুলে দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

তারেক রহমানের বস্তিবাসীদের ফ্ল্যাট দেওয়ার ঘোষণাকে বস্তিবাসীদের উচ্ছেদের ইঙ্গিত হিসেবে বর্ণনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, বস্তিবাসী ফ্ল্যাট চায় না। তারা চায় নিরাপদ জীবন, যা বস্তিতে থেকেও সম্ভব। অতীতে যারা বস্তিবাসীকে ফ্ল্যাট দিতে চেয়েছেন, তারা নির্বাচনের পর তাদের উচ্ছেদ করতে নেমেছেন। বস্তিবাসী এসব মিথ্যা আশ্বাস এখন বুঝতে পারে। তারা ফ্ল্যাটের আশায় নয়, দেশের স্বার্থে ন্যায়ের পক্ষে ভোট দেবে।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু হতে হবে। অন্য কোনো প্ল্যান কাজে আসবে না। নির্বাচন কমিশনকে স্বচ্ছ থাকতে হবে। কোনো দলকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া যাবে না। আমরা নির্বাচন কমিশনকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, আমরা মাঠে আছি। কোনো অন্যায় সহ্য করা হবে না।

ইনসাফের পক্ষে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে নাহিদ বলেন, এবারের নির্বাচন কেবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন নয়। একটি গণভোটও আছে। আমরা সবাই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দেব। বৈষম্য, চাঁদাবাজি, অন্যায়, জুলুম ও আধিপত্যবাদকে না বলব। এজন্য আমাদেরকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদ-চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। আমরা যে লক্ষ্য নিয়ে আন্দোলন করেছিলাম, সেই লক্ষ্য অনেকাংশেই ব্যর্থ হয়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী করে আমরা সেই আন্দোলনকে বিজয়ের উল্লাসে রূপান্তর করব।

এদিকে সমাবেশে ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য জোটের ‘সমন্বিত প্রতীক’ হিসেবে নাহিদ ইসলামের হাতে দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মিরপুর-১০ নম্বরের আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্যকালে নাহিদ ইসলামের হাতে দাঁড়িপাল্লা তুলে দেন তিনি।

জনসভায় বক্তব্যকালে জামায়াত আমির বলেন, উনার (নাহিদ ইসলাম) হাতে একটা সমন্বিত প্রতীক তুলে দিচ্ছি। আজকে বাকিদের হাতে দেবো দাঁড়িপাল্লা, আর উনার হাতে দেবো ‘পাল্লা-কলি’।

এ সময় দাঁড়িপাল্লার উপরের অংশের দিকে ইঙ্গিত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখানে পাল্লা আছে। আর ওপরের দিকে দেখেন, কলি আছে। এটাকেই আপনারা শাপলা কলি ধরে নেবেন, ইনশাআল্লাহ। ঢাকা-১১ আসনের যারা ভোটার তাদের জন্য ইনসাফের প্রতীকের সঙ্গে শাপলা কলি আমরা জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের হাতে তুলে দিচ্ছি।