প্রচারণার প্রথম দিনেই উত্তেজনা, কুমিল্লায় বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ১০

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণার প্রথম দিনেই কুমিল্লা-২ (হোমনা ও তিতাস) আসনে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও যৌথ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকালে হোমনা ওভারব্রিজ এলাকায় এ সংঘর্ষ ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবদুল মতিন কর্মী–সমর্থকদের নিয়ে কবর জিয়ারত শেষে শ্রীমদ্দি এলাকায় যাওয়ার পথে ওই এলাকায় পৌঁছালে বিএনপির প্রার্থী অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়ার অনুসারীরা তাঁদের বাধা দেন। এ নিয়ে প্রথমে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে রূপ নেয়।

সংঘর্ষের সময় কয়েকজনকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতদের হোমনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ বিষয়ে চিকিৎসকরা জানান, কয়েকজনের মাথা ও পিঠে গুরুতর আঘাত রয়েছে।

এ সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর প্রধান সমর্থক ও হোমনা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জহিরুল হক জহরের একটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এম এ মতিন খান একটি মোবাইল ফোনের দোকানে আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে।

ঘটনার পর পুরো এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আবদুল মতিন অভিযোগ করে বলেন, নির্বাচনে জনপ্রিয়তা হারানোর আশঙ্কায় প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এ বিষয়ে তিনি রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করবেন বলে জানান।

অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থী অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজনই আগে উসকানি দিয়েছে এবং আপত্তিকর স্লোগান দিয়েছে। পরিস্থিতি ঘোলাটে করতেই তাঁরা এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দাবি করেন।

হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোরশেদুল আলম চৌধুরী বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং যৌথ বাহিনী টহল দিচ্ছে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে এখনো আটক করা যায়নি।