নির্বাচনের আগে যশোর থেকে ঢাকায় অস্ত্রের চালান নিয়ে আসার পথে আজগর আলী ওরফে ভোলা নামে এক অস্ত্র কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর শ্যামপুরে ঢাকান্ডমাওয়া মহাসড়কে সোহাগ পরিবহনের একটি গাড়িতে তল্লাশি করে তার কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল ও ২১ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে ডিবির লালবাগ বিভাগ।
বিকেলে এ বিষয়ে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ডিবি। সেখানে গোয়েন্দা সংস্থার লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মোস্তাক সরকার বলেন, গত বুধবার সোহাগ পরিবহনের একটি বাসে এক অস্ত্র ব্যবসায়ী ঢাকায় প্রবেশ করছেন বলে তথ্য আসে। পরে বৃহস্পতিবার (গতকাল) দুপুর দেড়টার দিকে শ্যামপুর পশ্চিম দোলাইরপাড় এলাকার ঢাকান্ডমাওয়া মহাসড়কের ‘বনফুল’ মিষ্টির দোকানের সামনে বেনাপোল থেকে আসা সোহাগ পরিবহনের বাসকে থামার সংকেত দেওয়া হয়। এরপর বাসের সুপারভাইজার ও হেলপারের উপস্থিতিতে তল্লাশি চালানো হয়। একপর্যায়ে ওই ব্যবসায়ীকে শনাক্তের পর তল্লাশি চালিয়ে অস্ত্রসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি বলেন, আজগর আলীর দেহ তল্লাশি করে তার কোমরের একপাশ থেকে একটি রূপালি রঙের বিদেশি পিস্তল এবং কালো স্কচটেপে মোড়ানো দুটি রূপালি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। এরপর কোমরের অন্য পাশ থেকে আরও একটি কালো রঙের পিস্তল এবং স্কচটেপে মোড়ানো আরও দুটি কালো ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়। পরে তার প্যান্টের পকেট থেকে স্কচটেপে মোড়ানো অবস্থায় ২১ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।
মোস্তাক সরকার বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তার বাড়ি যশোরের বেনাপোল এলাকায় বলে জানায়। এর আগে ২০২১ সালে তার বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় একটি অস্ত্র মামলা রয়েছে এবং ২০২৪ সালে সাভারে ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তার হন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি অস্ত্র ব্যবসায়ী। তবে তিনি এই অস্ত্র কোথা থেকে নিয়ে এসেছেন এবং ঢাকায় কার কাছে বিক্রি করতে এসেছেন সে বিষয়ে জানা যায়নি।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঢাকায় অস্ত্র ঢোকানোর পরিকল্পনা ছিল কি না, প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে এসব অবৈধ অস্ত্রের মূল উদ্দেশ্যই হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বিস্তারিত জানা যাবে। অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় তার নামে শ্যামপুর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে মামলা করেছে। ওই মামলায় তাকে আজ শুক্রবার আদালতে তোলা হবে। অস্ত্রের উৎস এবং ক্রেতার বিষয়ে জানতে তাকে রিমান্ডের আবেদন করা হবে।