মন্তব্যের জেরে গ্রেপ্তার

গোলাম মোস্তফার মুক্তির দাবি আসক ও এইচআরএসএসের

বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্যের অভিযোগে সাইবার নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার গোলাম মোস্তফার মুক্তির দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র এবং হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। গতকাল বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে পৃথক বিবৃতি দেয় দুই সংগঠন। ঘটনার উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, ফেসবুকে তারেক রহমানকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্যের অভিযোগে দিনাজপুরের পার্বতীপুর মডেল থানায় গত ২১ জানুয়ারি গোলাম মোস্তফাকে আসামি করে একটি মামলা করেন স্থানীয় হরিরামপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুল ইসলাম তপু। মামলার আগেই ২০ জানুয়ারি পুলিশ গোলাম মোস্তফাকে আটক করে। পরদিন আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।

বিবৃতিতে আসকের সিনিয়র সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির বলেন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বাংলাদেশের সংবিধানে একটি স্বীকৃত মৌলিক অধিকার। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও জনপরিসরের নেতাদের নিয়ে সমালোচনা, আলোচনা কিংবা ভিন্নমত প্রকাশ একটি গণতান্ত্রিক সমাজের স্বাভাবিক ও অপরিহার্য অনুষঙ্গ। তিনি বলেন, দেশে বিগত সময়ে ডিজিটাল সিকিউরিটির মতো নিবর্তনমূলক আইনে রাজনীতিকদের কটূক্তির অভিযোগ তুলে বহু নাগরিক গ্রেপ্তার, কারাবরণ ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এই ধরনের চর্চা সমাজে ভীতির সংস্কৃতি তৈরি করে এবং স্বাধীন মতপ্রকাশের পরিসর সংকুচিত করে।

অন্যদিকে এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বিবৃতিতে বলেন, বিগত আওয়ামী সরকারের সময়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা, শেখ পরিবার, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, দলীয় নেতারা বা সমজাতীয় বিষয় নিয়ে সরাসরি বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখালেখি, নিন্দা জানানো বা পোস্ট করার কারণে ডিজিটাল/সাইবার নিরাপত্তা আইনের ব্যাপক অপব্যবহার করে যেভাবে মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে হরণ করা হয়েছে, একই ধারাবাহিকতায় বর্তমান সময়ে এসেও সাইবার নিরাপত্তা আইনের অপব্যবহার হচ্ছে। এটা প্রতীয়মান যে, বর্তমান সরকার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পূর্বের ধারাবাহিকতা থেকে এখনো বের হতে পারেনি। গোলাম মোস্তফাকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে তার মুক্তির দাবি জানায় আসক ও এইচআরএসএস।