জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক চুক্তি ৬ ফেব্রুয়ারি

জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (ইপিএ) খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে গত ডিসেম্বরে। এ বিষয়ে দুদেশের মধ্যে চূড়ান্তভাবে চুক্তি স্বাক্ষর হবে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি। গতকাল বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানায়, কোনো দেশের সঙ্গে এ ধরনের অর্থনৈতিক চুক্তি এটাই প্রথম। এ চুক্তির ফলে জাপানে ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্য শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের সুবিধা পাবে বাংলাদেশ। অন্যদিকে জাপান এ দেশে ১ হাজার ৩৯টি পণ্যের শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। এই অর্থনৈতিক চুক্তির মধ্য দিয়ে জাপানের জন্য ৯৭টি উপ-খাত উন্মুক্ত করা হচ্ছে। অন্যদিকে জাপান বাংলাদেশের জন্য ১২০টি উপ-খাতে চারটি মোডে সার্ভিস উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি সম্পাদিত হলে বাংলাদেশ চুক্তি স্বাক্ষরের দিন থেকেই ৭ হাজার ৩৭৯টি পণ্যে জাপানের বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা পাবে। অন্যদিকে জাপান ১০৩৯টি পণ্যে বাংলাদেশের বাজারে তাৎক্ষণিক শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে।

অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বা ইপিএ হলো দুই দেশের মধ্যে একটি মুক্তবাণিজ্য এলাকা বা এফটিএ তৈরির পরিকল্পনা। মুক্তবাণিজ্য এলাকায় বিভিন্ন বাণিজ্যে বাধা, আমদানি কোটা, শুল্ক কমাতে এবং একে অন্যের সঙ্গে পণ্য ও পরিষেবার বাণিজ্য বাড়ানোর জন্য এ ধরনের চুক্তি দুটি দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাপান বাংলাদেশের অন্যতম বড় বাণিজ্য অংশীদার। দুদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক বন্ধন দৃঢ়তর করা এবং এলসিডি গ্র্যাজুয়েশনের পর জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার সংরক্ষণ করতে চায়। এজন্য ‘বাংলাদেশ জাপান ইকোনমিক পার্টনারশিপ অ্যাগ্রিমেন্ট (বিজেইপিএ)’ স্বাক্ষরের উদ্যোগ নিয়েছে।

এ চুক্তির উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জাপানি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদি জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণ।