একের পর এক দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। গত কয়েকদিনে সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তিনটি চিকিৎসক নিপীড়নের ঘটনা ঘটেছে। পর্যায়ক্রমে হাসপাতালগুলোতে হামলার পেছনে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা অস্থিতিশীল করার কোনো গভীর ষড়যন্ত্র আছে কি-না তা সরকারের খতিয়ে দেখা উচিত বলে মনে করেন বিএনপি’র স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম।
আজ শুক্রবার সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে অবিলম্বে দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
তিনি বলেন, রোগী অথবা রোগীর স্বজনদের দায়িত্ব অবহেলা বিষয়ক কোনো অভিযোগ থাকলে তা সুরাহা করার জন্য বিএমডিসিসহ সরকারি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে কিন্তু সেই পদ্ধতি অনুসরণ না করে আইন নিজের হাতে তুলে নেয়া অত্যন্ত গর্হিত ও নিন্দনীয় কাজ।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, যেনো এক নিয়মে পরিণত হচ্ছে যে, চিকিৎসকদের উপর হামলা হবে, সাময়িক নিন্দা প্রতিবাদ হবে, আবার সব আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। এভাবে চলতে পারে না। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে জনগণের স্বাস্থ্যসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে- এ বিষয়টি সরকারকে এখনই গুরুত্বের সঙ্গে উপলব্ধি করতে হবে। চিকিৎসক ও জনগণের স্বাস্থ্য সুরক্ষা সরকারেরই দায়িত্ব। অন্যথায় এ ধরনের সহিংসতা আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
সম্প্রতি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটে। ডা. রফিক বলেন, এই ঘটনা চিকিৎসাসেবা প্রদানে নিরাপদ কর্মস্থলের চিকিৎসকদের দীর্ঘদিনের দাবীর গুরুত্ব আবারও নতুন করে মনে করিয়ে দেয়। রোগী ও চিকিৎসক সুরক্ষা আইন কাগজে কলমে নয়, বাস্তবিক প্রয়োগ আজ একটি আবশ্যিক পূর্বশর্ত হয়ে পড়েছে। যা নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিতকরণ করে রোগী ও চিকিৎসকদের মধ্যে আস্থা পুনরায় স্থাপন করতে পারে। তিনি দেশের সব হাসপাতালে চিকিৎসকদের জন্য নিরাপদ কর্ম পরিবেশ নিশ্চিতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।