হোবার্ট হারিকেন্স ব্যর্থ তবে রিশাদ প্রথম বিগ ব্যাশে উজ্জ্বল

প্রথমবার বিগ ব্যাশ লিগ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে অভিষেক আসরেই নজর কাড়লেন বাংলাদেশের লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। ফাইনালে খেলার একেবারে দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেও দলীয় ব্যর্থতায় হতাশা নিয়েই হোবার্ট হারিকেন্সের সঙ্গে টুর্নামেন্ট শেষ করতে হয়েছে তাকে। তবে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সে ছিলেন দারুণ উজ্জ্বল।

চলতি বিগ ব্যাশে ১২ ম্যাচে ১৫ উইকেট নিয়ে আসর শেষ করেছেন রিশাদ। স্পিনারদের মধ্যে এটিই এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ উইকেট সংখ্যা। সমান ১৫টি করে উইকেট নিয়েছেন ফাইনালিস্ট পার্থ স্কর্চার্সের বাঁহাতি স্পিনার কুপার কনোলি এবং অ্যাডিলেইড স্ট্রাইকার্সের লেগ স্পিনার লয়েড পোপ।

শুক্রবার চ্যালেঞ্জার ম্যাচে সিডনি সিক্সার্সের কাছে হারলেও বোলিংয়ে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন রিশাদ। ৪ ওভারে ৩৩ রান দিয়ে নেন দুটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট, সেটিও একই ওভারে। নিজের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলেই স্টিভেন স্মিথের স্টাম্প ভেঙে দেন তিনি। সুইপ খেলতে গিয়ে পুরোপুরি ব্যর্থ হন অস্ট্রেলিয়ান তারকা ব্যাটসম্যান। ওভারের শেষ বলেই বিদায় করেন সিক্সার্স অধিনায়ক মোজেস হেনরিকেসকে।

সপ্তদশ ওভারে নিজের কোটার শেষ ওভার করতে এসে মাত্র চার রান দেন রিশাদ। ওই ওভারে কট বিহাইন্ডের আবেদনে আম্পায়ার সাড়া না দেওয়ায় এবং রিভিউ না থাকায় আরেকটি উইকেটের সম্ভাবনাও নষ্ট হয়।

ব্যাট হাতে অবশ্য সিক্সার্সের ভিত গড়ে দেন স্মিথই। ওপেনিংয়ে নেমে ১ ছক্কা ও ৯টি চারে ৪৩ বলে ৬৫ রান করেন তিনি। তার ইনিংসের ওপর ভর করেই ৮ উইকেটে ১৯৮ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় সিক্সার্স। ৮ বলে ১৯ রান করেন হেনরিকেস, জোয়েল ডেভিস ১২ বলে দুটি ছক্কা ও দুটি চারে করেন ২৭ রান, আর শ ১৩ বলে চারটি চারে যোগ করেন ২১ রান।

বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে হারিকেন্স। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় কেউই ফিফটির দেখা পাননি। সর্বোচ্চ ৪০ রান করেন বেন ম্যাকডারমট, ২৬ বলে ১ ছক্কা ও তিনটি চারে। নয় নম্বরে নেমে রিশাদ নিজেও একটি ছক্কায় ৮ বলে ১১ রান করেন।

শেষ পর্যন্ত হারিকেন্স গুটিয়ে যায় ১৪১ রানে। ৫৭ রানের জয়ে বিগ ব্যাশের ফাইনালে ওঠে সিডনি সিক্সার্স। এটি তাদের অষ্টম ফাইনাল, যেখানে আগামী রোববার শিরোপার লড়াইয়ে তারা মুখোমুখি হবে রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন পার্থ স্কর্চার্সের। বিগ ব্যাশে ষষ্ঠবারের মতো ফাইনালে দেখা হচ্ছে এই দুই দলের।