ট্রাম্পের কারণে বিশ্বকাপ বয়কটের আহ্ববান জার্মান ফুটবল কর্তার 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা ও আলোচনা করার সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন জার্মান ফুটবল ফেডারেশনের (ডিএফবি) এক শীর্ষ কর্মকর্তা। বুন্দেসলিগার ক্লাব সেন্ট পাউলির প্রেসিডেন্ট এবং ডিএফবির অন্যতম ভাইস-প্রেসিডেন্ট ১০ জন সহসভাপতির ওকে গটলিশ শুক্রবার জার্মান দৈনিক-কে বলেন, “এখনই সময় এসেছে বিশ্বকাপ বয়কটের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা ও আলোচনা করার।”

গটলিশের মন্তব্যের পেছনে রয়েছে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলসংক্রান্ত বক্তব্য ও ইউরোপের কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে শুল্ক আরোপের হুমকি। গ্রিনল্যান্ড ন্যাটো সদস্য ডেনমার্কের একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল। এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করায় আটটি ইউরোপীয় দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দেন ট্রাম্প। এর ফলে ইউরোপজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে এবং ন্যাটো জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেক মিত্রদেশ।
গটলিশ বলেন, “আশির দশকে অলিম্পিক গেমস বয়কটের পেছনে যে যুক্তিগুলো দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো কী ছিল? আমার হিসাবে সেই সময়ের তুলনায় এখন সম্ভাব্য হুমকি আরও বড়। তাই এই আলোচনা আমাদের করতেই হবে।”

২০২৬ বিশ্বকাপ আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় যৌথভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এরই মধ্যে বিশ্বকাপের টিকিটের উচ্চ মূল্য নিয়ে সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার কারণে অংশগ্রহণকারী কিছু দেশের সমর্থকেরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারছেন না—যা নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

গটলিশ মূল্যবোধ ও নৈতিক অবস্থানের প্রশ্নে সরব হলেও তার বয়কট প্রস্তাব ডিএফবি প্রেসিডেন্ট বার্নড নয়েনডর্ফ এবং ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ানি ইনফান্তিনোর কাছ থেকে প্রবল প্রতিরোধের মুখে পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

২০২২ কাতার বিশ্বকাপের সময় ডিএফবি কাতারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল—এই প্রসঙ্গ টেনে গটলিশ বলেন, “কাতার তখন সবার কাছে খুব বেশি রাজনৈতিক ছিল, আর এখন আমরা হঠাৎ করে একেবারেই অরাজনৈতিক? এই দ্বৈত অবস্থান আমাকে সত্যিই বিরক্ত করে।”

কাতার বিশ্বকাপে জার্মানি গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। এরপর দায়িত্ব নেওয়া জার্মান কোচ প্রকাশ্যে বলেন, তিনি আর রাজনৈতিক বিভ্রান্তি চান না। তবে গটলিশের মতে, খেলাধুলা ও সমাজ—উভয় ক্ষেত্রেই কিছু সীমারেখা থাকা জরুরি, “সংগঠন ও সমাজ হিসেবে আমরা কীভাবে সীমা নির্ধারণ করতে হয় এবং মূল্যবোধ রক্ষা করতে হয়, তা ভুলে যাচ্ছি। নিষেধাজ্ঞা বা ট্যাবু আমাদের অবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কেউ হুমকি দিলে সীমা অতিক্রম হয় কি না? কেউ আক্রমণ করলে? মানুষ মারা গেলে? আমি জানতে চাই—ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে সেই সীমা কোথায়, আর বার্নড নয়েনডর্ফ ও জিয়ানি ইনফান্তিনোর কাছেও একই প্রশ্ন।”

বিশ্বকাপ বয়কট হলে সেন্ট পাউলির জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন—এমন ধারণাও নাকচ করে দেন গটলিশ। তার ক্লাবের হয়ে অস্ট্রেলিয়ার জ্যাকসন আরভিন ও কনর মেটকালফ এবং জাপানের জোয়েল চিমা ফুজিতা জাতীয় দলে খেলেন। গটলিশ স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “একজন পেশাদার ফুটবলারের জীবন কখনোই তার চেয়ে অসংখ্য মানুষের জীবনের চেয়ে বেশি মূল্যবান নয়, যারা বিশ্বকাপ আয়োজক দেশের কারণে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে আক্রান্ত বা হুমকির মুখে পড়ছে।”

ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থান ও তার প্রভাব ঘিরে বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরের ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে এই মন্তব্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল ইউরোপীয় ফুটবল অঙ্গনে।