নরসিংদীতে গাড়ির ওয়ার্কসপে ঘুমন্ত অবস্থায় চঞ্চল চন্দ্র ভৌমিক (২৩) নামে এক যুবককে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) গভীর রাতে শহরের সাহেপ্রতাপ এলাকায় রুবেল মিয়ার গাড়ি মেরামতের ওয়ার্কসপে দোকানে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার রাতে দূর্বৃত্তের দেওয়া আগুনের সিসি টিভির ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে বিষয়টি আলোচনায় আসে।
নিহত চঞ্চল কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের খোকন চন্দ্র ভৌমিকের ছেলে। তিনি সাহেপ্রতাপ উত্তরপাড়া বাইতুল আকসা জামে মসজিদ মার্কেটের একটি গাড়ি ওয়ার্কশপে কাজ করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, প্রতিদিনের মতো শুক্রবার রাতেও কাজ শেষে একটি মেস থেকে খাবার খেয়ে এসে দোকানের ভেতরেই ঘুমিয়ে পড়েন চঞ্চল। গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা দোকানের শাটারের নিচে আগুন লাগিয়ে দেন। ভেতরে পেট্রল-মবিল থাকায় মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে ভেতরে। এতে পুড়ে অঙ্গার হন চঞ্চল। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে মরদেহ উদ্ধার করে।
স্বজনরা জানায়, চঞ্চল পরিবারের একমাত্র আর্থিক সক্ষম ব্যক্তি। তার আয়েই পিতৃহীন পরিবারে প্রতিবন্ধী ভাইসহ পরিবারের সংসার চলতো। তার মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তারা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছে।
নিহত চঞ্চলের সহকর্মী মিঠুন বিশ্বাস বলেন, চঞ্চল প্রায় সাত বছর ধরে এই গ্যারেজে ইঞ্জিন ম্যাকানিকের কাজ করেন। পাশের একটি মেসে খাবার খেয়ে রাতে দোকানেই থাকতেন। প্রতিদিনের মতো রাতে ঘুমালেও আগুনের লেলিহান শিখায় পুড়ে ছাই হয়ে যায়। জীবন বাঁচাতে টেবিলের নিচে গিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি। এমন মর্মান্তিক ঘটনায় আমরা দৃষ্টান্ত বিচার দাবি করছি।
এদিকে পাশের দোকানের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, কয়েকজন লোক গ্যারেজের সামনে ঘুরাঘুরি করছে। এরমধ্যে একজন লোক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাপড় জমিয়ে দোকানের শাটারে আগুন দিচ্ছে। তিনি সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা অবস্থান করেন। যখন আগুন দোকানে ছড়িয়ে পড়ে তখন তিনি পালিয়ে যান।
এব্যপারে দোকোন মালিক মো. রুবেল মিয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে তাকে পাওয়া যায়নি।
নরসিংদী সদর হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. গুলশানা কবির বলেন, একজনকে আঙ্গার অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নরসিংদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ আর এম আল মামুন বলেন, আমরা খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছি। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। অপরাধীদের শনাক্ত করতে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। এঘটনায় এখনো কোন মামলা দায়ের করা হয়নি।