একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেত্রী জয়া আহসান। প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশের সীমানা পেরিয়ে দ্যুতি ছড়াচ্ছেন ভারতীয় সিনে জগতে। সেখানে গিয়েও টলিউডের শ্রাবন্তী, কোয়েল, পাওলি-মিমিদের ছাপিয়ে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন জয়া। তার অভিনয়ের প্রশংসা করছেন টালিগঞ্জের নামকরা সব অভিনয়শিল্পীরা। তবে শুরু থেকেই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ও গণমাধ্যমে নিজের মুখে জয়ার শ্রুতি গেয়ে আসছেন ‘বুম্বাদা’ খ্যাত টলিউডের মহাতারকা প্রসেনজিৎ চ্যাটার্জি। এবার নতুন করে আরও একবার ‘জয়া বন্দনা’ শোনা গেল তার মুখে। ‘জয়া আহসান মানেই পর্দায় সৌন্দর্য, অভিনয়ে সংযম আর বাস্তব জীবনে একেবারে স্বাভাবিক সরলতা’ এভাবেই বললেন প্রসেনজিৎ।
সেই সঙ্গে খানিকটা রসিকতার স্বরে অভিনেতা জানালেন, ‘জয়ার একটা অদ্ভুত দিক আছে। সে কোনো দিনই মোটা হবে না। কারণ জয়া যে ভীষণ খাবারপ্রেমী, সেটা খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। প্রসেনজিতের ভাষ্য, জয়া রসগোল্লা ভীষণ ভালোবাসে। সুযোগ পেলেই খায়। অথচ আশ্চর্যের বিষয় হলো, এত কিছু খেয়েও তার শরীরে এক ফোঁটা ফ্যাটও জমে না। প্রকৃতি যেন তাকে আলাদা করে গড়ে তুলেছে।’ হাসতে হাসতে প্রসেনজিৎ আরও বলেন, ‘আমি তো একদিন ওকে বলেই ফেললাম, তুই তো আসন করিস না, এক্সারসাইজ করিস না! জবাবে জয়া উত্তর দেয়, তার নাকি কিছু হয় না। তার এমন সরল ও আত্মবিশ্বাসী জবাব শুনে আমার রসিকতা রূপ নেয় অবাক বিস্ময়ে।’
এই অভিনেতা জানান, জয়ার সঙ্গে আমার জুটি বেঁধে কাজ করা হয় ‘রবিবার’ নামে একটি ছবিতে। সে খুব বুদ্ধিমতি ও ভীষণ পেশাদার। জয়ার বৃদ্ধিমত্তা ও প্রফেশনালিজমের সঙ্গে যোগ করতে হবে ওর ডিগনিটি। ওর এই জিনিসটাই আমার কাছে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’ অন্যদিকে প্রসেনজিৎ সম্পর্কে জয়া বলেন, ‘বুম্বাদা এমন একজন মানুষ, যিনি স্টার হয়ে প্রফেশনাল ডিজাইনের বাইরে এসে সামনে দাঁড়ান। বুম্বাদার জন্য আমিও এত সাবলীলভাবে অভিনয় করতে পেরেছিলাম।’
জয়াকে ভারতের শীর্ষ ৫ অভিনেত্রীর একজন হিসেবে মন্তব্য করেছেন প্রসেনজিৎ বলেন, জয়া কম বয়সেই টোয়েন্টি ওয়ান প্লাস হয়ে এখানে আসেনি। অনেক পরে এসেছে। তবু ওর এই গ্রহণযোগ্যতার একটি ব্যাখ্যা হলো, ওর প্রেজেন্স (উপস্থিতি)। নায়িকার প্রেজেন্স লাগে, ব্যক্তিত্ব লাগে। জয়া নিজেকে ভালো ক্যারি করতে পারে। স্ক্রিনে ওর প্রেজেন্স ওর একটি স্ট্রং পয়েন্ট। জয়ার অভিনয়ের প্রশংসা করে প্রসেনজিৎ আরও বলেন, ওর অভিনয়ের ধারাটা ভীষণ আধুনিক। লুকস বা গ্লামার নয়। প্রসেনজিতের মতো এত বড় মাপের অভিনেতা ও নির্মাতার মুখে নিজের এমন প্রশংসা শুনে বেশ বিব্রতবোধ করেন জয়া।