ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মাঠে খেলতে আসা কয়েকজন কিশোরকে কানে ধরিয়ে উঠবস করানোর অভিযোগ উঠেছে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমার বিরুদ্ধে। এ সময় তিনি লাঠি হাতে কিশোরদের মারতেও উদ্যত হন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, লাঠি হাতে একদল কিশোরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন সর্বমিত্র চাকমা। কিশোররা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে খেলতে এসেছিলেন। ভিডিওতে তাদের কান ধরে উঠবস করতে দেখা যায় এবং লাঠি হাতে সর্বমিত্র চাকমাকে তাদের পাশে পায়চারি করতে দেখা যায়। ভিডিওটি কবে ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সূর্যসেন হল ছাত্রদল নেতা আবিদুর রহমান ভিডিওটি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শেয়ার করে লেখেন, ‘ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমা প্রক্টরের দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নিয়ে বাচ্চাদের কানে ধরে উঠবস করাচ্ছেন। অপরাধ— বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে খেলতে এসেছে। কোনো অপরাধ হলে তার বিচারের দায়িত্ব বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের। এটাই শিবিরের শাসনব্যবস্থার নমুনা।’
তিনি দাবি করেন, ভিডিওটি গত ৬ জানুয়ারির।
এদিকে ছাত্রদল নেতা তানভীর বারী হামীম ভিডিওটি শেয়ার করে সর্বমিত্র চাকমাকে নিয়ে কটূক্তিমূলক মন্তব্য করেন, যা নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
এ ঘটনায় সাধারণ ব্যবহারকারীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মনোয়ার হোসেন নামে একজন লেখেন, ‘ঢাকা শহরে শিশুদের খেলার জায়গা ক্রমেই কমে যাচ্ছে। কোনো কিশোর যদি নিয়ম না বুঝে কোথাও ঢুকে পড়ে, তাহলে শিক্ষার্থীদের উচিত সুন্দরভাবে বুঝিয়ে বলা। লাঠি হাতে কান ধরিয়ে ভয় দেখানোর অধিকার সর্বমিত্র চাকমাকে কে দিয়েছে?’
ডাকসুর সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদও বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘যত বড় অপরাধীই হোক না কেন, কাউকে লাঠি হাতে এভাবে শাস্তি দেওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার কারও নেই। আপনার দায়িত্ব প্রক্টরিয়াল টিমকে জানানো। শাস্তি দেওয়ার দায়িত্ব প্রশাসনের। আপনি শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি মাত্র— আইন হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার আপনার নেই।’
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।