অভিযোগ অনুসন্ধানে বিলম্ব কারণ জানতে চায় দুদক

নির্ধারিত সময়ে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান সম্পন্ন করতে না পারা কর্মকর্তাদের ডেকে বিলম্বের কারণ জানতে চায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ কারণে গতকাল রবিবার থেকে শুনানি শুরু করেছে কমিশন। দুদক সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

দুদক কর্মকর্তারা বলেছেন, দুর্নীতি দমন কমিশন বিধিমালা অনুযায়ী যে কোনো দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান ৪৫ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে। এই সময়ে মধ্যে সম্পন্ন করতে না পারলে অনুসন্ধান কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আরও ৩০ কার্যদিবস বাড়ানো হবে। অর্থাৎ দুর্নীতির কোনো অভিযোগের অনুসন্ধান শুরুর পর থেকে সব মিলিয়ে ৭৫ দিনের মধ্যে অনুসন্ধান শেষ করতে হবে। কিন্তু দুর্নীতির হাজার-হাজার অভিযোগের অনুসন্ধান নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না। এ বিষয়ে দুদক থেকেও তেমন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হতো না। তবে দুদকের বর্তমান চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের নেতৃত্বাধীন কমিশন যেসব কর্মকর্তা দুর্নীতির অভিযোগ নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে পারেননি তাদের তালিকা প্রস্তুত করেছেন। সেই তালিকা ধরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে অনুসন্ধান কার্যক্রম বিলম্বের কারণ জানতে শুনানি করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দুদকের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, দুর্নীতির তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার অভিযোগ আছে, যেগুলো নির্ধারিত সময়ে শেষ হয়নি। কী কী কারণে অনুসন্ধানে বিলম্ব হচ্ছে সেটি জানতে চায় কমিশন। তিনি বলেন, নির্ধারিত সময়ে দুর্নীতির অভিযোগের অনুসন্ধান না হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র নির্ধারিত সময়ে না পাওয়ায়। দ্বিতীয়ত, অনুসন্ধান কর্মকর্তা বেশি ব্যস্ত বা তার দ্বারা কাজ হচ্ছে না। আর তৃতীয়ত, অনুসন্ধান কর্মকর্তাদের অনৈতিক সুবিধা গ্রহণের মনোভাব। যারা রেকর্ডপত্র সংগ্রহ বা ব্যস্ততার জন্য অনুসন্ধান কাজ শেষ করতে পারেননি, তারা কত দিনে শেষ করতে পারবেন, তা জেনে একটি সময় দেবেন। আর যারা কোনো কারণ ছাড়াই বা অনৈতিক সুবিধার লোভে শেষ করেনি তাদের তিরস্কার বা অন্য কোনো শাস্তি দিতে পারেন। এমনকি বিভাগীয় মামলা করতে পারেন। তবে সবই নির্ভর করে কমিশনের ওপর।