মেলবোর্নের প্রচণ্ড দাবদাহ অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে বড় প্রভাব ফেলেছে। সূর্যের তাপে খেলোয়াড়দের শারীরিক সক্ষমতা যেমন পরীক্ষার মুখে পড়েছে, তেমনি টেনিস কর্তৃপক্ষও গরম মোকাবিলায় নতুন বাস্তবতায় মানিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে।
তৃতীয় রাউন্ডের ম্যাচের শুরুতেই টমাস মাখাচ আম্পায়ারের কাছে টুর্নামেন্ট চিকিৎসক, ফিজিও ও ক্র্যাম্প প্রতিরোধে ব্যবহৃত ‘পিকল জুস’ চান। লরেঞ্জো মুসেত্তির বিপক্ষে তার এই আগাম সতর্কতা কাজে লেগেছিল, কারণ জন কেইন অ্যারেনায় প্রচণ্ড গরমের মধ্যে দু’জনকে খেলতে হয় টানা চার ঘণ্টা ২৫ মিনিট। ম্যাচ শেষে মুসেত্তি বলেন, ‘আমরা জানতাম আজ ভয়ানক গরম হবে। আমি খুশি যে ক্র্যাম্প ছাড়াই ম্যাচ শেষ করতে পেরেছি।’
শনিবার মেলবোর্নে তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় আয়োজকেরা স্বাভাবিক সময়ের আধা ঘণ্টা আগে, সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে খেলা শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন। মাঠজুড়ে ফ্রি এসপিএফ ৫০+ সানস্ক্রিনের স্টেশন, পানির লাইনে দর্শকদের দীর্ঘ সারি এবং স্টেডিয়ামে প্রস্তুত অ্যাম্বুলেন্স কর্মীদের উপস্থিতি গরমের ভয়াবহতারই ইঙ্গিত দিচ্ছিল। ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার জন্য টুর্নামেন্ট প্রস্তুত থাকলেও বড় প্রশ্ন ছিল—সব খেলোয়াড় কি প্রস্তুত?
জেসিকা পেগুলা তুলনামূলক স্বস্তিতে চতুর্থ রাউন্ডে ওঠেন। তিনি বলেন, ‘আইস টাওয়েল আর হাইড্রেশন খুব জরুরি। দীর্ঘদিন গরমে না খেললে শরীরের সহনশীলতা থাকে না।’ গরমে বলের গতি বেড়ে যাওয়ায় র্যাকেটের স্ট্রিং টেনশন বাড়ানোর মতো কৌশলেও ভরসা করছেন খেলোয়াড়রা। ম্যাডিসন কিস বলেন, ‘আবহাওয়া অনুযায়ী কখনো কখনো তিন–চার পাউন্ড পর্যন্ত টেনশন বাড়াতে হয়।’
এদিকে মিডিয়া সেন্টারের স্ক্রিনে ভেসে ওঠে ‘অস্ট্রেলিয়ান ওপেন হিট স্ট্রেস স্কেল’। ১ থেকে ৫ মাত্রার এই স্কেলে ৫ হলে খেলা বন্ধের নিয়ম। দুপুর ২টার দিকে তাপমাত্রা ৩৪ ডিগ্রিতে পৌঁছালে স্কেল ওঠে ৪-এ—সেটের মাঝে বাড়তি বিরতির নির্দেশ আসে। একপর্যায়ে তাপমাত্রার স্কেল পৌঁছে যায় ৫-এ। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ইয়ানিক সিনার রড লেভার অ্যারেনায় চরম শারীরিক সমস্যায় পড়েন।
সারা শরীরে ক্র্যাম্প, খুঁড়িয়ে হাঁটা—এক পর্যায়ে নিজের বক্সের দিকে তাকিয়ে হতাশ কণ্ঠে বলেন, ‘আমি জানি না কী করব।’ ঠিক সেই সময় ছাদ বন্ধ করে দেওয়া হয় রড লেভার অ্যারেনার। পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আসতেই শক্তি ফিরে পায় সিনার, শেষ পর্যন্ত ম্যাচ জিতে যান তিনি। অন্য কোর্টগুলোতেও খেলা সাময়িক বন্ধ রাখা হয়।