মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষর রয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা মাহমুদ হোসেন সুমনকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির প্রাথমিক সদস্যসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কারের অভিযোগ উঠেছে। 

এ সংক্রান্ত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষর রয়েছে।

তবে এই বহিষ্কারের দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মাহমুদ হোসেন সুমন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিজ বাসা থেকে ধারণ করা এক ভিডিও বার্তায় তিনি বিষয়টির তীব্র প্রতিবাদ জানান।

ভিডিও বার্তায় সুমন বলেন, সারা দেশে যখন নির্বাচনী আমেজ তৈরি হয়েছে, ঠিক সেই সময়ে এমন একটি বিভ্রান্তিকর বিষয় সামনে আনা হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি কখনো বিএনপির জেলা, থানা কিংবা ইউনিয়ন পর্যায়ের কোনো নেতা ছিলেন না। এমনকি বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদেও তিনি কখনো অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। 

তিনি আরও দাবি করেন, একটি কুচক্রী মহল তার জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।

ভিডিও বার্তায় তিনি প্রশ্ন তোলেন, প্রচারিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিটি আদৌ বিএনপির পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে কি না। একই সঙ্গে তিনি বলেন, যদি এটি সত্য হয়, তাহলে বিএনপির মতো একটি বড় রাজনৈতিক দলের ভেতরে এমন বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি কাম্য নয়।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর মাহমুদ হোসেন সুমন সম্প্রতি দেশে ফিরে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দেন। তার বাবা মোজাহার হোসেন পঞ্চগড়-২ আসন থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনসহ চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত পঞ্চগড় -২ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন।  বাবার মৃত্যুর পর তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকলেও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্রা প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনে তিনি ঘোড়া প্রতীকে লড়ছেন।  তিনি অবশ্য ২০১৮ সালে বিএনপি থেকে মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। বাবার মৃত্যুর পরে তার বাবার বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী সমর্থক দলে কোণঠাসা হয়ে পড়ে। অনেককে বহিষ্কার করা হয়। এই আসনটিতে  সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটারদের একত্রিত করেছিলেন এবং চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।