বয়স হলেও জনসেবা করার মতো সাহস ও শক্তি আছে: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘ ১৫ বছর পর দেশে কথা বলার ও মত প্রকাশের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে বেগুনবাড়ি ইউনিয়নের বেগুনবাড়ি বাজার এলাকায় এক পথসভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। মির্জা ফখরুল বলেন, অতীতে যারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চেয়েছে, তাদের মামলা-হামলা দিয়ে কণ্ঠ রোধ করা হয়েছিল। ছাত্র-জনতার ত্যাগের বিনিময়ে আজ সেই অধিকার পুনরুদ্ধার হয়েছে।

নির্বাচনী সভায় নিজের রাজনৈতিক সংকল্প ব্যক্ত করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমার বয়স বর্তমানে ৭৯ বছর হলেও জনগণের সেবা করার মতো যথেষ্ট সাহস ও শক্তি আমার আছে।’ ছাত্র আন্দোলনের মুখে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর দেশত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, যারা দেশের মানুষকে সংকটে রেখে পালিয়ে যায়, তাদের রাজনীতিতে কোনো স্থান নেই। অনেক ছাত্রের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই ভোটাধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় জেলার কৃষি ব্যবস্থা নিয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশের কৃষি খাত এখনও পূর্ণতা পায়নি, বিশেষ করে ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষকরা সবচেয়ে বেশি অসহায় অবস্থায় আছেন। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে জেলায় কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এর মাধ্যমে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।’

দেশের বেকারত্ব দূরীকরণ ও তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমানে শুধু সাধারণ ডিগ্রি বা বিএ পাস করাই যথেষ্ট নয়। বিশ্ববাজারের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তরুণদের কারিগরি বা টেকনিক্যাল প্রশিক্ষণে দক্ষ হতে হবে। সঠিক প্রশিক্ষণ নিলে দেশের বাইরেও প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। দক্ষ জনশক্তি তৈরিই হবে আগামীর বাংলাদেশের মূল চালিকাশক্তি।

গণসংযোগকালে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় ভোটারদের মাঝে ধানের শীষের লিফলেট বিতরণ করেন এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দেন। সোমবার দিনভর তার আরও বেশ কয়েকটি নির্বাচনী সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী তার সাথে উপস্থিত ছিলেন।