দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে নিয়মিত ক্লাস নেওয়া, শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও একাডেমিক সব দায়িত্ব পালন করেও এমপিওভুক্তি থেকে বঞ্চিত পঞ্চগড়ের এক কলেজ শিক্ষক। এমপিওভুক্তি করণে আইনি জটিলতা না থাকলেও রয়েছে অধ্যক্ষের অনীহা। তিনি নীতিমালার কোন তোয়াক্কা করছেন না বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী শিক্ষকের। এ অবস্থায় নিজের ন্যায্য অধিকার আদায়ে তিনি দ্বারস্থ হয়েছেন প্রশাসনের। এমপিও নীতিমালা-২০২১ অনুযায়ী শূন্যপদে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিয়োগ ও এমপিওভুক্তির দাবিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।
ভুক্তভোগী শিক্ষকের নাম পবিত্র কুমার বর্মণ। তিনি পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার বোদা মহিলা মহাবিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের প্রভাষক (নন-এমপিওভুক্ত)।
গত ১৯ নভেম্বর পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক বরাবরে একটি লিখিত আবেদনও করেছেন পবিত্র কুমার বর্মণ। আবেদনের পর বিষয়টি তদন্তে জেলা প্রশাসক দায়িত্ব দেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে।
জানা গেছে, পবিত্র কুমার বর্মণ ২০০৩ সালের ১৩ জানুয়ারি সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে প্রভাষক হিসেবে বোদা মহিলা মহাবিদ্যালয়ে যোগদান করেন। কলেজটি উচ্চমাধ্যমিক স্তরে এমপিওভুক্ত হলেও তার নিয়োগ স্নাতক (পাস) পর্যায়ে হওয়ায় প্রায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে তিনি নন-এমপিওভুক্ত অবস্থায় শিক্ষকতা করে যাচ্ছেন। অনিশ্চিত আয়ের কারণে পরিবার নিয়ে তাকে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাতে হচ্ছে।
এদিকে, ২০২৫ সালের ৩০ জুন কলেজের উচ্চমাধ্যমিক স্তরের সমাজবিজ্ঞান বিষয়ের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক দিলরুবা বেগম অবসর গ্রহণ করলে পদটি শূন্য হয়। এমপিও নীতিমালা-২০২১ অনুযায়ী ওই শূন্যপদে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ তৈরি হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে জানা যায়, শূন্যপদে সমন্বয়ের মাধ্যমে নিয়োগের দাবিতে তিনি গত ৩ জুলাই ও ৯ নভেম্বর অধ্যক্ষ বরাবরে লিখিত আবেদন করেন। তবে অধ্যক্ষ আবেদন গ্রহণ করলেও কোনো রিসিভ কপি দেননি। পরে বাধ্য হয়ে ১০ নভেম্বর রেজিস্টার্ড ডাকযোগে আবেদন পাঠালেও গভর্নিং বডির সভা আহ্বান করা হয়নি।
পবিত্র কুমার বর্মণের অভিযোগ, এমপিও নীতিমালা উপেক্ষা করে অধ্যক্ষ এনটিআরসিএ-এর মাধ্যমে নতুন শিক্ষক নিয়োগের চাহিদা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যা তার দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনকে আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলেছে। বর্তমানে কলেজে সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে তিনি ছাড়া আর কোনো প্রভাষক কর্মরত নেই।
আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, এমপিও নীতিমালা-২০২১ এর আলোকে দেশের বিভিন্ন কলেজে একই পরিস্থিতিতে থাকা স্নাতক পর্যায়ের প্রভাষকরা সমন্বয়ের মাধ্যমে উচ্চমাধ্যমিক স্তরে নিয়োগ পেয়ে এমপিওভুক্ত হয়েছেন। অথচ তার ক্ষেত্রে একই সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না।
পবিত্র কুমার বর্মন বলেন, ২০০৩ সালে কলেজের উন্নয়নে ৪ বিঘা জমি বিক্রির টাকা ডোনেশন দিয়ে যোগদান করি। দীর্ঘ দুই যুগেও বেতনের মুখ দেখিনি। এখন সুযোগ আসলেও অধ্যক্ষের অনীহার কারণে হচ্ছে না। বারবার অধ্যক্ষকে অনুরোধ করেও সফল হয়নি। পরোক্ষভাবে বড় অংকের উৎকোচ চাওয়া হচ্ছে, কিন্তু এই মুহূর্তে সেই সক্ষমতা আমার নেই।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ আশরাফুল ইসলাম লিটন বলেন, নির্বাচনকালীন সময় এখন। এই মুহূর্তে কলেজে কোন কমিটি নেই। নির্বাচনের পর নতুন কমিটি আসলে এটা হয়ে যাবে আশাকরি। এ ব্যাপারে আমার সদিচ্ছার ঘাটতি নেই। তারপরও ইউএনওর (বর্তমান সভাপতি) সঙ্গে কথা বলব, উনি যদি উদ্যোগ নেন তাহলে আগেই হতে পারে।
এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা খায়রুল আনাম মো. আফতাবুর রহমান হেলালী বলেন, তার এমপিওভুক্তকরণে আইনি জটিলতা নেই। তবে তার প্রতি অধ্যক্ষ একটু মনক্ষুণ্ন। আমি মিউচুয়াল করে দিয়েছিলাম। দেখি আবার খবর নেব।