পানিকে মৌলিক উপাদান স্বীকৃতিসহ '১২ দফা খুলনা' ঘোষণা

পানিকে শুধুমাত্র সম্পদ নয়, প্রতিবেশের মৌলিক উপাদান হিসেবে স্বীকৃতি, প্রাকৃতিক ভূ-উপরস্থ জলাধারের লিজ প্রথা সম্পূর্ণ বাতিলসহ ১২ দফা খুলনা ঘোষণায় শেষ হয়েছে তিন দিনব্যাপী তৃতীয় উপকূলীয় পানি সম্মেলন।

আজ সোমবার দুপুরে নগরীর সিএস আভা সেন্টারে সমাপনী অনুষ্ঠানে পানি, প্রতিবেশ ও পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিতভাবে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। দেশের ৬০টি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, সংগঠন, প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে এ সম্মেলনের আয়োজন করে।

খুলনার ঘোষণার অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে, উপকূলসহ দেশের সকল কৃষি-অকৃষি প্রতিবেশগত অঞ্চলগুলোর সংবেদনশীল বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় একটি স্বতন্ত্র পানি নীতি ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, পানি-পলল ব্যবস্থাপনা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জীবিকা ও সংস্কৃতি বিবেচনায় লোকজ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন, স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং দুর্যোগকালীন পানি সরবরাহের জন্য বিশেষ বাজেট বরাদ্দ, কৃষিজমিতে মানবসৃষ্ট জলাবদ্ধতা ও লোনাপানি উত্তোলন সম্পূর্ণ বন্ধ, অপরিকল্পিত লোনাপানি-কেন্দ্রিক চিংড়ি চাষ নিষিদ্ধ, জলাবদ্ধতা রোধে নদী অবমুক্তকরণ ও খাল-বিল-হাওড়-বাওড়ের সঙ্গে নদীর সংযোগ স্থাপন, পার্লামেন্টারি ককাস গঠন, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন সেবার মানোন্নয়ন, মৎস্যজীবীদের জীবিকা ও মৎস্য প্রজনন প্রতিবেশ সুরক্ষা, সমুদ্রগামী জেলেদের জন্য স্বতন্ত্র পরিচয়পত্র ও জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলার সক্ষমতা নিশ্চিত এবং প্রতিবেশকেন্দ্রিক উপকূলীয় বসতি সংরক্ষণের জন্য টেকসই পরিকল্পনা গ্রহণ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মারুফুল ইসলামের সঞ্চালনায় সমাপনী অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন ওয়াটার এইডের দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক ডা. মো. খাইরুল ইসলাম, সম্মেলন কমিটির কো-চোয়রাম্যান রফিকুল ইসলাম খোকন, কুয়েটের অধ্যাপক ড. তুষার কান্তি রায়, ডরপের নির্বাহী পরিচালক মো. জুবায়ের হাসান, ওয়াশ এক্সপার্ট মো. জাহিদুর রহমান, ক্লাইমেট রেজিলেন্সের থিমেটিক লিড তামান্না রহমান, লিডার্সের মোহন কুমার মণ্ডল, কোস্টাল ভয়েসের সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা জামাল পপলু। খুলনা ঘোষণা পাঠ করেন সম্মেলন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শামীম আরফীন।

অংশীজন কর্মশালায় মধ্য দিয়ে গত শনিবার শুরু হওয়া সম্মেলনে পানি, জলবায়ু ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, গবেষক, নাগরিক নেতা, ভুক্তভোগী জনগোষ্ঠী, প্রকৌশলী, গণমাধ্যমকর্মী, উন্নয়নকর্মীসহ চার শতাধিক প্রতিনিধির মিলনমেলায় পরিণত হয়। দুই দিনে সম্মেলনের চারটি সেশনে উপকূলীয় পানি, প্রতিবেশ, টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ূ পরিবর্তনের প্রভাব ও মোকাবিলার কৌশল, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্তকরণ বিষয়ে ৪৭টির মতো ভাবনা উপস্থাপন করা হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে সম্মেলনের গুরুত্ব তুলে ধরেন ওয়াটার এইডের দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক ড. মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, এই সংকট মোকাবিলায় শক্ত রাজনৈতিক অঙ্গীকার ছাড়া কোনও কার্যকর সমাধান সম্ভব নয়। ঘোষণার মধ্য দিয়ে সম্মেলন শেষ হলো না। এ দাবি জারি রাখতে হবে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সম্পৃক্ত করে দাবিগুলো নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংসদে তুলে ধরা গেলে কিছুটা হলেও সমাধানের পথ তৈরি হবে।