দিশেহারা অনন্ত জলিল

টাকা-পয়সা থাকলেও কেবলমাত্র সাধারণ মানুষ যেন চিনতে পারেন, তাদের কাছে এ নামে পরিচিত হতে পারেন- এ রকম স্বপ্ন নিয়েই শোবিজে পা রাখেন তিনি। শুরুতে মিউজিক ভিডিও এবং বিভিন্ন ফটোশুটের মডেল হিসেবে যাত্রা শুরু করলেও জনপ্রিয় হওয়ার স্বপ্নটা অধরাই থেকে যায় তার। এক সময় লক্ষ্য পূরণ করে এক সময় নিজের টাকা-পয়সা দিয়ে সিনেমা নির্মাণ করে নিজেই নায়ক হিসেবে অভিনয় শুরু করেন।  ২০০১ সালে খোঁজ : দ্য সার্চ সিনেমার মাধ্যমে ব্যবসায়ী থেকে চিত্রনায়ক বনে যান এম এ জলিল অনন্ত। প্রথম সিনেমার মাধ্যমেই যেন কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছে যান তিনি। যদিও আলোচনার পাশাপাশি বিভিন্ন কারণে হাস্যরসেও পরিণত হন এই নায়ক।

তবে নানা কারণে আলোচিত নায়ক ও প্রযোজক অনেকদিন ধরেই সিনেমায় অনিয়মিত। মাঝখানে সন্তানদের কথা বিবেচনায় অভিনয়কে বিদায় জানানার আভাস দেন তিনি। বর্তমানে এক কঠিন ব্যবসায়িক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে সিনেমা জগৎকে ‘পুরোপুরি বিদায়’ জানানোর ঘোষণা দিলেন। সাভারে অবস্থিত তার বিশাল গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি, যেখানে এক সময় ১২ হাজার কর্মী কাজ করতেন, ব্যবসায়িক মন্দার কারণে সেই জনবল এখন মাত্র ৪ হাজারে নেমে এসেছে। এই বিশাল ব্যবসায়িক ধস সামাল দিতে এবং ফ্যাক্টরিকে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতেই আপাতত সব মনোযোগ ব্যবসার দিকে দিতে চান এই অভিনেতা। বর্তমানে পেন্ডিং থাকা সিনেমার কাজগুলোও শেষ করার মতো অবস্থায় নেই বলে জানিয়েছেন তিনি।

মোস্ট ওয়েলকাম, দিন : দ্য ডে সিনেমাসহ একগুচ্ছ আলোচিত সিনেমার এই নায়ক ও প্রযোজক বললেন, সিনেমা করলেও সিনেমার জন্য পাগল ছিলাম না। বিজনেস মাইন্ডের হওয়ায় শুটিংয়ের ফাঁকে ব্যবসার খোঁজ নিতাম। ব্যবসার একটা ভালো অবস্থায় না যাওয়া পর্যন্ত আমার সিনেমায় যাওয়া এখন ঠিক হবে না। অনন্ত জলিল আরও বলেন, যখন কোনো কাজে সংকট থাকে, সেই কঠিন সময় কাটিয়ে উঠতে আমি সেদিকে ফোকাস করছি এটা আমার ক্যারেক্টার। এখন ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না, এদিকে নজর না দিয়ে সিনেমা নিয়ে পড়ে থাকলে সামনে আরও কঠিন অবস্থায় পড়ে যাব।

অনন্ত জলিলের প্রতিটি সিনেমায় নায়িকা ছিলেন স্ত্রী বর্ষা। অনন্ত জানান, তারা যখনই বড় পর্দায় ফিরবেন, একসঙ্গেই ফিরবেন; আর না ফিরলে দুজনের কেউ কাজ করবেন না।  ফলে অনন্তের এই সিদ্ধান্তের কারণে বর্ষার ক্যারিয়ারও বর্তমানে থমকে গেল। এদিকে শুটিং চলাকালে আটকে থাকা ‘নেত্রী দ্য লিডার’ এবং ‘অপারেশন জ্যাকপট’-সহ জাজ মাল্টিমিডিয়ার ‘চিতা’ সিনেমার ভবিষ্যৎ এখন সম্পূর্ণ অনিশ্চিত। এ বিষয়ে অনন্ত জলিল সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যদি কখনো ব্যবসায়িক সুদিন ফিরে আসে তবেই এসব সিনেমার কাজ শুরু হবে, নতুবা নয়।

বতর্মানে বর্ষা ব্যস্ত রয়েছেন বেশ কিছু ব্রাইডাল ফটোশুটে। তবে দুজনেই দীর্ঘদিন ধরে সিনেমায় কাজ করা থেকে দূরে রয়েছেন। এ জুটির সর্বশেষ সিনেমা ছিল ২০২৩ সালে ‘কিল হিম’। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে ‘নেত্রী দ্য লিডার, দ্য স্পাই’। 

দেশীয় ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে চিত্রনায়ক অনন্ত জলিল ও চিত্রনায়িকা বর্ষা সুখী দম্পতির আদর্শ উদাহরণ। পেশাগত জীবনের বাইরে পুরো সময় সংসারে দিতে ভালোবাসেন এ তারকা দম্পতি।