ইরানে হামলায় নিজ ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দেবে না ইউএই

ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে নিজেদের আকাশসীমা, ভূখণ্ড কিংবা জলসীমা ব্যবহারের অনুমতি দেবে না সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ভিন্ন ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও দেশটি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক সহায়তায় তারা যুক্ত হবে না। খবর আল জাজিরা।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ইউএই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আমিরাত কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষেই অবস্থান করছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, সংলাপ জোরদার, উত্তেজনা প্রশমন, আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলা এবং রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধাই বর্তমান সংকট মোকাবেলার সর্বোত্তম পথ।

এক সপ্তাহ আগে সৌদি আরবও একই ধরনের অবস্থান তুলে ধরে জানিয়েছিল, তারা ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে নিজেদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি দেবে না। ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের ‘কঠোর প্রতিক্রিয়া’ দেওয়ার হুমকির মধ্যেই উপসাগরীয় দেশগুলোর এমন অবস্থান সামনে এলো।

ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাব পড়ছে মধ্যপ্রাচ্যগামী বিমান চলাচলেও। নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে একাধিক আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা এ অঞ্চলে ফ্লাইট পরিচালনা সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে।

ফ্রান্সের জাতীয় বিমান সংস্থা এয়ার ফ্রান্স জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতির কারণে তারা সাময়িকভাবে দুবাইগামী ফ্লাইট বন্ধ রাখছে। নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, দেশটির বিমান সংস্থা কেএলএম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন শহরে ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত করেছে এবং ইরান ও ইরাকের আকাশসীমা এড়িয়ে চলবে।

এছাড়া ভারতের বেসরকারি বিমান সংস্থা ইন্ডিগো এয়ারলাইনস জানিয়েছে, পরিস্থিতির সর্বশেষ মূল্যায়নের পর ২৬, ২৭ ও ২৮ জানুয়ারি তিবিলিসি, আলমাটি, তাসখন্দ ও বাকুগামী একাধিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর আগে ২৫ জানুয়ারি দিল্লি-তিবিলিসি ও মুম্বাই-আলমাটি রুটের ফ্লাইটও বাতিল করা হয়।

এদিকে, গত সপ্তাহে হোয়াইট হাউস জানায়, ইরানে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনা স্থগিত হওয়ায় সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা কিছুটা কমেছে। তবে মার্কিন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বলেন, সামরিক প্রস্তুতি এখনো অব্যাহত রয়েছে।

অন্যদিকে, শনিবার এক ইরানি কর্মকর্তা সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী স্ট্রাইক গ্রুপ ও অন্যান্য সামরিক সম্পদ মোতায়েনের প্রেক্ষাপটে ইরানের ওপর যেকোনো আক্রমণকে দেশটি ‘সর্বাত্মক যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা বলেন, সম্ভাব্য সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইরানের সামরিক বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।