শিবালয়

মামলা তুলে নিতে হুমকি: আহত ৩, আটক ১

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় তালাকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করায় প্রতিপক্ষের হামলায় নারী ও শিশুসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় স্বামী-শ্বশুরসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) পুলিশ একজনকে আটক করে আদালতে পাঠিয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শিবালয় উপজেলার উথলী ইউনিয়নের কোলা বহলাকুল গ্রামের সবুর উদ্দিনের মেয়ে সুবর্ণা আক্তারের সঙ্গে একই গ্রামের সদাগর আলীর ছেলে হৃদয় হোসেনের তিন বছর আগে বিয়ে হয়। প্রায় দুই মাস আগে কোনো কারণ ছাড়াই হৃদয় হোসেন স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার কথা জানায়। এর প্রতিবাদে সুবর্ণা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আদালতে মামলা করেন।

মামলার পর থেকে হৃদয় হোসেনের ভাই হাসানসহ পরিবারের সদস্যরা সুবর্ণার বাবা-মা ও স্বজনদের মামলা তুলে নিতে হুমকি দিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ করা হয়।

গত সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে হৃদয়ের আত্মীয়স্বজন সুবর্ণার বাবার আবাদ করা সরিষা ক্ষেত নষ্ট করতে থাকে। এতে বাধা দিলে সুবর্ণার মা আছমা বেগমের ওপর শাবল ও লাঠি দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে তিনি মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আহত হন। তার চিৎকারে এগিয়ে এলে ছেলে আশিক (১৫) ও পুত্রবধূ মনিকাকে (২৫) মারধর করা হয়।

আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে শিবালয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

আহত সুবর্ণার বাবা সবুর উদ্দিন বলেন, ‘আমার আবাদি সরিষা ক্ষেত নষ্ট করতে গেলে নিষেধ করায় আমার স্ত্রী, ছোট ছেলে ও বড় পুত্রবধূকে বেধড়ক মারপিট করা হয়েছে।’

আহত আছমা বেগম বলেন, ‘মেয়ের মামলা তুলে নিতে চাপ দিয়ে আমাদের ওপর হামলা করা হয়েছে। মাথা ফেটে রক্ত বের হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আহত আছমা বেগমের মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে ১০টি সেলাই দিতে হয়েছে এবং তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

শিবালয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন জানান, মারধরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নামীয় আসামি সদাগর আলীকে গ্রেপ্তার করে মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।