ভোটের প্রভাব রোজার পণ্যের দামে!

রমজান মাস আসতে এখনো তিন সপ্তাহের বেশি বাকি। কিন্তু এর মধ্যেই বাড়তে শুরু করেছে চিনি, মসুর ও মটর ডালের দাম। তবে ছোলা ও খেজুরের দর অনেকটা স্থিতিশীল রয়েছে। খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে চিনির দাম মণপ্রতি ১৫০ টাকা বেড়েছে। এ ছাড়া ভারত থেকে আমদানি করা মসুর ডালের দাম কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়েছে। মটর ডালের দামও প্রতি কেজিতে ৬ টাকা বেড়েছে। অন্যদিকে, ছোলার দাম এক মাসের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ১০ টাকা এবং পেঁয়াজের দাম ২০ টাকা কমেছে। তবে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, এ বছর রোজার আগে জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে প্রশাসন ব্যস্ত থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা আরও সুযোগ নিতে পারেন।

খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সেখানে প্রতি মণ চিনি বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৪৫০ টাকা দরে। এক মাস আগে তা বিক্রি হয়েছিল ৩ হাজার ৩০০ টাকায়। ভারতীয় চিকন মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৬০ টাকায়। এক মাস আগে এই ডালের দাম ছিল ১৫০ টাকা কেজি। মোটা দানার মসুর ডাল এক মাস আগে ৮০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন কেজিপ্রতি ৮ টাকা কমে ৭২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা খেজুর প্রতি কেজি ১৪০ থেকে ১৪২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে পাইকারিতে। একই খেজুর গত বছর রমজানে প্রতি কেজি ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা উন্নত মানের ছোলা প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগে এই ছোলা বিক্রি হয়েছিল কেজি ৯০ টাকায়। মধ্যম মানের ছোলা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৬৮ থেকে ৭২ টাকা। খাতুনগঞ্জের বাজারে দেশি পেঁয়াজ কেজি ৩৫ থেকে ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক মাস আগে এই পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৬০ থেকে ৮০ টাকায়।

এদিকে খুচরা বাজারে ক্রেতাদের কাছ থেকে প্রতিটি ভোগ্যপণ্যের ক্ষেত্রে পাইকারি বাজারের তুলনায় প্রতি কেজিতে ১৫ থেকে ২০ টাকা বাড়তি দাম নেওয়া হচ্ছে। গত সোমবার কাজির দেউড়ি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে প্রতি কেজি ছোলা ৯০ টাকা, মটর ডাল ৮০, মসুর ডাল (চিকন) ১৮০, দেশি পেঁয়াজ ৬০ ও ভারতীয় পেঁয়াজ ৮০ এবং প্রতি কেজি চিনি ১০৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, রমজান মাস এলেই নির্দিষ্ট কিছু ভোগ্যপণ্যের চাহিদা বেড়ে যায়। সেই সুযোগের যথাযথ ব্যবহারের জন্য মুখিয়ে থাকে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। রমজানে দাম বাড়ানোর অভিযোগ থেকে রেহাই পেতে অন্তত এক থেকে দেড় মাস আগেই সূক্ষ্ম কৌশলে এসব পণ্যের দাম বাড়িয়ে নেওয়া হয়। আর ওই বর্ধিত দামে রমজানে বিক্রি করে ভোক্তাদের পকেট কাটা হয়। আগামী রমজানকে সামনে রেখেও এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা সেই কৌশল অবলম্বন করছেন বলেই মনে করছেন অনেকে।

খাতুনগঞ্জের পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, মাস দুয়েকের মধ্যে বাজারে কিছুটা ওঠানামা হলেও গত বছরের তুলনায় প্রত্যেকটি পণ্যের দাম কম রয়েছে। রোজায় যেসব পণ্যের চাহিদা বেশি থাকে, সেগুলোর মজুদ ও সরবরাহ এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে। তারা জানান, সাপ্লাই চেইন ঠিক থাকলে রমজান মাসে ভোগ্যপণ্যের বাজারে অস্থিরতা তৈরির কোনো আশঙ্কা নেই।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি আবদুস সালাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, এই মুহূর্তে ভোগ্যপণ্যের বাজার অনেকটা স্বাভাবিক রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের সরবরাহ সংকট নেই। তিনি বলেন, গত বছর এই সময়ের তুলনায় এ বছর অধিকাংশ পণ্য কম দরে বিক্রি হচ্ছে। আশা করছি রমজানেও তা স্থিতিশীল থাকবে। তিনি আরও বলেন, পাইকারি বাজারে দাম কম থাকলেও অনেক সময় দাম বৃদ্ধির অজুহাত তুলে খুচরা বাজারের দোকানদাররা ভোক্তাদের কাছ থেকে বাড়তি দাম নিয়ে থাকেন। সেদিকে প্রশাসনের নজরদারি থাকা প্রয়োজন।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন দেশ রূপান্তরকে বলেন, মুসলমানদের জন্য রমজান ‘নাজাতের মাস’ হিসেবে পরিগণিত হলেও এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা এটাকে ‘মুনাফার মাস’ মনে করে থাকেন। তারাই রমজানকে সামনে রেখে বেশি চাহিদার পণ্যের দাম বাড়াতে শুরু করেছেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের ব্যস্ততার সুযোগ নিয়ে অতীতের মতো এবারও রমজানে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের বাজার অস্থির করে তুলতে পারেন।