ভারত যেতে ক্রিকেট দলকে 'না' শুটারদের 'হ্যাঁ'

নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিকল্প হিসেবে তাদের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের অনুরোধ জানিয়েছিল। তাতে অবশ্য আইসিসি রাজী হয়নি। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ থেকেই ছিটকে যেতে হয়েছে বাংলাদেশকে। এ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনার ঝড় বইছে। এই টালমাটাল পরিস্থিতির মাঝেই সরকার বাংলাদেশ শুটিং দলকে ভারতের দিল্লিতে ২ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি হতে যাওয়া রাইফেল ও পিস্তল শুটিং চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে অনুমতি দিয়েছে। এ সংক্রান্ত সরকারী আদেশ বুধবার জারি করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। 

ইনডোর এবং সংরক্ষিত এলাকায় আন্তর্জাতিক শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশনের এই আসরটি আয়োজিত হবে বলে বড় কোনো নিরাপত্তাঝুঁকি দেখছে না সরকার। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম বলেন, ‘বাংলাদেশ দলে একজন খেলোয়াড় ও একজন কোচ, ছোট দল। তা ছাড়া স্থানীয় আয়োজকেরা আমাদের নিশ্চিত করেছে যে নিরাপত্তার কোনো সমস্যা হবে না। ইনডোরে এবং সংরক্ষিত এলাকায় হবে খেলা। ফলে নিরাপত্তার সংকট হবে না আশা করা যায়। সব দিক বিবেচনা করেই শুটিং দলকে ভারতের যাওয়ার অনুমতি দিয়েছে সরকার।‘

দিল্লিতে বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধিত্ব করবেন রাইফেল শুটার রবিউল ইসলাম। তার সঙ্গে কোচ হিসেবে যাবেন শারমিন আক্তার। এই দলের হয়ে দিল্লির আসরে খেলার কথা ছিল নারী রাইফেল শুটার কামরুন নাহার কলি ও সায়রা আরেফিনের। রবিউলের মতো এ দুইজনও রয়েছেন আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির বৃত্তির আওতায়। তবে বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশন কলিকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কোড অব কন্ডাক্ট ভঙ্গের অভিযোগে। আর শুটিং ক্যাম্পে নিরাপত্তার অভাবে নিজেই ক্যাম্প ছেড়ে চলে গেছেন সায়রা।

এদিকে দিল্লির আসরে পিস্তল শুটার পাঠানোর সুযোগ থাকলেও বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশন সে সুযোগ নেয়নি। রবিউল ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে অংশ নেবেন ৫ ফেব্রুয়ারি। বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্য হওয়ায় রবিউলের আছে বিশেষ পাসপোর্ট। ফলে তার আগাম ভারতীয় ভিসার প্রয়োজন নেই। তবে কোচ শারমিনকে ভিসার জন্য আবেদন করতে হবে। শনিবার দু’জনের ভারতে যাওয়ার কথা রয়েছে। ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকের পর প্রথম কোন শুটিং দল আন্তর্জাতিক আসরে অংশ নিতে যাচ্ছে।