ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণ নির্বাচনী ইশতেহারে অন্তর্ভুক্তির দাবি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সকল রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী ইশতেহারে ‘স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসা জাতীয়করণ’-এর অঙ্গীকার অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন মাদরাসা শিক্ষকরা।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর পল্টনস্থ আজাদ সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

হাফেজ মাওলানা আহমদ আলির সভাপতিত্বে এবং মহাসচিব মো. রেজাউল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা ইবতেদায়ী শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, ১৯৭৮ সালের অধ্যাদেশ ও ১৯৮৪ সালের মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের রেজিস্ট্রেশন অনুযায়ী স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় একই পাঠ্যসূচি অনুসরণ করে শিক্ষা দান করে আসছে। অথচ প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হলেও ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলো আজও অবহেলিত। এমনকি ১৯৯৪ সাল থেকে শুরু হওয়া মাত্র ৫০০ টাকার ভাতার বৈষম্য আজও কাটেনি। বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২০২২ সাল থেকে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি ও ‘ফিডিং’ কার্যক্রমও অজানা কারণে বন্ধ রয়েছে।

সংগঠনের মহাসচিব মো. রেজাউল হক বলেন, ২০২৫ সালের ২৮ জানুয়ারি শাহবাগে শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের যুগ্ম সচিব ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, পর্যায়ক্রমে সব স্বতন্ত্র মাদরাসা জাতীয়করণ করা হবে। কিন্তু সেই ঘোষণার এক বছর পার হলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

সংবাদ সম্মেলন থেকে শিক্ষা উপদেষ্টা ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তাদের প্রতি দাবি জানানো হয়

১. আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জেলা পর্যায় থেকে তথ্যপ্রাপ্ত অনুদানভুক্ত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসার এমপিওভুক্তির তালিকা গ্যাজেট আকারে প্রকাশ করতে হবে।
 
২. অনুদানবিহীন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদরাসাগুলোকে দ্বিতীয় পর্যায়ে এমপিওভুক্তির কার্যক্রম অবিলম্বে শুরু করতে হবে।
 
৩. আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোকে তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে মাদরাসা জাতীয়করণের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার রাখতে হবে।