টেকনাফে ৬ কৃষককে অস্ত্রের মুখে অপহরণ

কক্সবাজার টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের মিনাবাজারের পাহাড়ি এলাকা থেকে ৬ কৃষককে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করেছে পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা। অপহৃতরা হলেন মো. জমিল (৬২), শফি আলম (১৩), মোহাম্মদ আলম ওরফে মাহাত আলম (১৮), জাহিদ হোসেন ওরফে মুন্না, মোজাহের (৬০), জুনাইদ (১২)। অপহৃত সবাই মিনাবাজার ও আশ্রয়কেন্দ্র এলাকার বাসিন্দা।

গত মঙ্গলবার সকালে কৃষি ক্ষেতে কাজ করতে যাওয়ার সময় পাহাড়ি অপহরণকারীরা অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করে নিয়ে যায়। বিষয়টি গতকাল নিশ্চিত করেন হোয়াইক্যং মডেল ইউনিয়ন পরিষদের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান মো. শাহ জালাল।

তিনি বলেন, সকালে কৃষিকাজে যাওয়ার পথে পাহাড়ি অস্ত্রধারীরা কৃষকদের জিম্মি করে পাহাড়ের ভেতরের দিকে নিয়ে যায়। এতে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দ্রুত অসহায় কৃষকদের উদ্ধারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা প্রয়োজন।

এ বিষয়ে হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ এসআই খোকন কান্তি রুদ্র জানান, হোয়াইক্যং মিনাবাজার আশ্রয়ণ কেন্দ্র এলাকার ৬ জন কৃষক পাহাড়ি এলাকায় কৃষিকাজ করতে গেলে পাহাড়ি ডাকাত দল তাদের তুলে নিয়ে যায় বলে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং অপহৃতদের উদ্ধারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ চলমান রয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ভোরে কৃষিক্ষেতে কাজ করতে গিয়ে স্থানীয় ৬ কৃষক অপহরণ হন। এখনো পর্যন্ত অপহরণকারীদের পক্ষ থেকে কোনো মুক্তিপণের দাবি পাওয়া যায়নি। অপহৃত কৃষকদের পরিবার চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে।

স্থানীয় সচেতন মহলের ভাষ্য, নির্বাচনী প্রচারণার সময় প্রশাসনের ব্যস্ততার সুযোগে পাহাড়ি সশস্ত্র অপহরণ চক্র বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। নির্বাচনের পাশাপাশি পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের দিকে প্রশাসনের তীক্ষèভাবে নজরদারি করতে হবে। না হয় অপহরণ চক্রের হাতে পাহাড়ি এলাকায় বসবাসরত বাসিন্দাদের একের পর এক অপহরণের শিকার হয়ে মুক্তিপণ দিতে হবে। অন্যথায় লাশ হয়ে ফিরবে অপহরণ চক্রের হাত থেকে। পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের দমনে প্রশাসনের কাছে জোর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

 টেকনাফ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, ঘটনা জানার পরপরই অপহৃতদের উদ্ধারে কাজ করছে পুলিশ।