কৃষি উপদেষ্টা বললেন

কৃষকের প্রণোদনা দিতে বাধার মুখে পড়তে হয়

বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন খাতে প্রণোদনার জন্য নানা সুপারিশ থাকে। কিন্তু এ দেশে কৃষকদের প্রণোদনা দিতে গেলে বাধার মুখে পড়তে হয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

তিনি বলেন, শিল্প-কারখানার মালিকরা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ফেরত দেন না। কৃষকরা ঋণ নিতে গেলে পান না। আবার শিল্প-কারখানার মালিকরা ব্যাংকঋণে ২ শতাংশ সুদ দিয়ে মাফ পেয়ে যান। তারা নানা ধরনের প্রণোদনা পান। কিন্তু কৃষকের ক্ষেত্রে এটা হয় না।

গতকাল বুধবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত ‘ট্রান্সফরমিং বাংলাদেশ এগ্রিকালচার : আউটলুক ২০৫০’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন কৃষি সচিব এমদাদ উল্লাহ মিয়ান। এ সময় জাতিসংঘের কৃষি ও খাদ্য সংস্থার ঢাকার প্রতিনিধি ড. জিকুইন শি, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) ড. মো. মুস্তাফিজুর রহমান ও সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. মঞ্জুর হোসেন উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মাহমুদুর রহমান।

কৃষি উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি হয়তো আর বেশিদিন এই খাত নিয়ে কাজ করতে পারব না। কৃষি নিয়ে ভবিষ্যতে কিছু বলার সুযোগও হয়তো আর হবে না। তাই এখন বলে যেতে চাই, এই কৃষকরাই জাতির মেরুদ-। এ কথা মুখে বললেও কার্যক্ষেত্রে তার প্রয়োগ নেই। এ কৃষকরা তাদের ফসলের ন্যায্যমূল্য পান না।’

তিনি বলেন, ‘দাম না পেয়ে কৃষকরা তাদের ফসল ফেলে দেন। আমরা কয়েক দিন হা-হুতাশ করি। সাংবাদিকরা দু-একটা ছবি তোলেন। কিন্তু ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তাদের প্রণোদনা দিতে গেলে বাধার মুখে পড়তে হয়। এ ধরনের অবস্থা হলে কৃষকরা বাঁচবে না। আর কৃষকদের উন্নতি না হলে দেশের উন্নতি হবে না। তাই কৃষির উন্নয়ন করতে হলে কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে হবে।’ এ সময় কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনারা

কৃষকদের দেখবেন।’