বড় অঙ্কের জরিমানা দিয়ে নিষেধাজ্ঞা থেকে বাঁচল সেনেগাল, কোচ থিয়াও নিষিদ্ধ

আফ্রিকা কাপ অব নেশনস ফাইনালে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির জেরে কড়া শাস্তির মুখে পড়েছে সেনেগাল। মরক্কোর বিপক্ষে ফাইনালে বিতর্কিত পেনাল্টি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে খেলোয়াড়দের মাঠ ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশনকে (এফএসএফ) মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি দলটির কোচ পাপে থিয়াওকে পাঁচ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছে কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবল (সিএএফ)।

বুধবার সিএএফ এক বিবৃতিতে জানায়, ১৮ জানুয়ারি রাবাতে অনুষ্ঠিত ফাইনালে থিয়াও “অস্পোর্টসম্যানসুলভ আচরণ” করেছেন এবং “খেলার সুনাম ক্ষুণ্ন করেছেন।” ওই ম্যাচে অতিরিক্ত সময়ে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় সেনেগাল।

ফাইনালের সময় রেফারির সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে খেলা সেনেগালের দুই ফরোয়ার্ড ইলিমান এনদিয়ায়ে ও ইসমাইলা সারকে দুই ম্যাচ করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে শৃঙ্খলাভঙ্গের বিভিন্ন অভিযোগে সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশনকে মোট ৬ লাখ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা, জরিমানা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির জন্য মরক্কোকেও শাস্তির মুখে পড়তে হয়েছে। “অখেলোয়াড়িচিত আচরণ”-এর জন্য ফরোয়ার্ড ইসমাইল সাইবারিকে তিন ম্যাচ নিষিদ্ধ ও এক লাখ ডলার জরিমানা করা হয়েছে। অধিনায়ক আশরাফ হাকিমিকে দেওয়া হয়েছে দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা। স্টেডিয়ামের বল বয়দের অনুপযুক্ত আচরণের জন্য রয়্যাল মরোক্কান ফুটবল ফেডারেশনকে জরিমানা করা হয়েছে ২ লাখ ডলার। এছাড়া ভিএআর রিভিউ এলাকায় ঢুকে রেফারির কাজে বাধা দেওয়ায় আরও এক লাখ ডলার এবং লেজার ব্যবহার করে প্রতিপক্ষকে বিভ্রান্ত করার জন্য ১৫ হাজার ডলার জরিমানা করা হয়েছে। এতে মরক্কোর মোট জরিমানার অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ১৫ হাজার ডলার।

ফাইনালের নাটকীয়তা শুরু হয় ম্যাচের শেষ দিকে। ইসমাইলা সাররের একটি গোল ফাউলের কারণে বাতিল হওয়ার পরই উত্তেজনা চরমে ওঠে। পরে মরক্কোকে একটি পেনাল্টি দেওয়া হলে ক্ষুব্ধ সেনেগাল খেলোয়াড়রা তীব্র প্রতিবাদ জানান। টিভি ফুটেজে দেখা যায়, কোচ থিয়াও খেলোয়াড়দের উদ্দেশে ইশারা করছেন—যা অনেকেই মাঠ ছেড়ে চলে যাওয়ার নির্দেশ হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। অধিকাংশ খেলোয়াড় মাঠ ছেড়ে ড্রেসিংরুমে চলে গেলেও তারকা ফরোয়ার্ড সাদিও মানে মাঠেই থেকে যান এবং পরে সতীর্থদের ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখেন।

দীর্ঘ বিলম্বের পর নেওয়া মরক্কোর পেনাল্টি শটটি দুর্বলভাবে নেওয়ায় তা ঠেকিয়ে দেন সেনেগালের গোলরক্ষক এদুয়ার মঁদি। এরপর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে, যেখানে পাপে গুয়ের গোলেই সেনেগাল জিতে নেয় তাদের দ্বিতীয় এএফকন শিরোপা।

সিএএফ জানিয়েছে, কোচ ও খেলোয়াড়দের নিষেধাজ্ঞা শুধু সিএএফ প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হবে। ২০২৬ বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে এর কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে থিয়াও ২০২৭ এএফকন বাছাইপর্বের ছয় ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতে ডাগআউটে থাকতে পারবেন না।