ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন কেন্দ্র করে সংখ্যালঘুদের জীবন- জীবিকা ও সম্ভ্রম নিয়ে শঙ্কা ও উদ্বেগ কাটছে না বলে মনে করে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ। সংগঠনের নেতারা বলছেন, আর এই শঙ্কা ও উদ্বেগ ভোট প্রদানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিরুৎসাহিত করতে পারে। ‘চলমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতা এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ সামনে রেখে গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ঐক্য পরিষদ।
এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ঐক্য পরিষদের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ। এ সময় ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ৫২২টি ঘটনা উল্লেখ করে বলা হয়, হত্যার শিকার- ৬৬ জন, নারী নির্যাতন/ধর্ষণ/গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ২৮টি, উপাসনালয়ে হামলা, প্রতিমা ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে ৯৫টি, উপাসনালয়ের জমি দখল/দখলের চেষ্টার ঘটনা ২১টি, বাড়িঘর, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ১০২টি ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম ২৭ দিনে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে ৪২টি। হত্যার ১১টি ঘটনা ঘটেছে।
মনীন্দ্র কুমার নাথ বলেন, সারা দেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী বিশেষ করে নারী প্রতিনিয়ত ভীতি এবং আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে। চলমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতাকে বর্তমান সরকার বরাবরই অস্বীকার করে চলেছে এবং কোনো কোনো সময় ‘সাম্প্রদায়িক সহিংসতা’কে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্যে অযৌক্তিক ব্যাখ্যা দিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন এবং গণমাধ্যম এ বিষয়ে বিভিন্ন সময় প্রতিবেদন প্রকাশ করে জনগণকে বাস্তব চিত্র অবহিত করেছে। তিনি বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট দিতে নিরুৎসাহিত হওয়ার দায় সরকার, প্রশাসন, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোকে নিতে হবে।
এই অনভিপ্রেত পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তনে নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃঢ় ভূমিকা কামনা করে ঐক্য পরিষদ। এ সময় বলা হয়, এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণভোটের নামে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোট যুক্ত হয়েছে। এখানে ধর্মনিরপেক্ষতাকে বাদ দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি ঘোষণা করা হয়েছে। এর পক্ষে সরকার ও নির্বাচন কমিশন সরাসরি প্রচার চালাচ্ছে। এটি দুঃখ ও দুর্ভাগ্যজনক এবং নিতান্তই পক্ষপাতদুষ্ট।
এ অবস্থায় হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সংবাদ সম্মেলন থেকে সাত দফা দাবি জানায়। এগুলো হলো, ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু ভোটাররা যাতে নির্বিঘেœ ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে, নির্বাচনী প্রচারে ধর্ম ও সাম্প্রদায়িকতার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা, নির্বাচনে সংখ্যালঘু ও নৃগোষ্ঠীর নির্ভয়ে, নির্বিঘেœ ভোটদানের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা, নির্বাচনের পূর্বাপর সময়কালে ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও জননিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলাজনিত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের তাগিদে সংখ্যালঘুঅধ্যুষিত এলাকাগুলো ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন এবং মনিটরিং সেল করা, নির্বাচনী প্রচার কাজে যেকোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ের ব্যবহার নিষিদ্ধ ইত্যাদি।