ঠা-া আবহাওয়া, নবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদন বৃদ্ধিসহ নানা কারণে ভারতে বিদ্যুদের চাহিদা কমেছে। এর মধ্যেও চলতি অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে আর্থিক ও পরিচালন ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছে দেশটির শীর্ষ বেসরকারি তাপ বিদ্যুৎ উৎপাদক আদানি পাওয়ার লিমিটেড (এপিএল)।
গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ দিন তারা তৃতীয় প্রান্তিকের আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গেল ডিসেম্বরে তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির মোট বিদ্যুৎ বিক্রি দাঁড়িয়েছে ২৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ইউনিট, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ২৩ দশমিক ৩ বিলিয়ন ইউনিট। এই সময়ে বিদ্যুতের উৎপাদন ১৭ হাজার ৫৫০ মেগাওয়াট থেকে বেড়ে ১৮ হাজার ১৫০ মেগাওয়াটে পৌঁছেসে। তবে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ব্যবহার হার (প্ল্যান্ট লোড ফ্যাক্টর) কমে ৬২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে। কিছু বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির আওতায় বিদ্যুৎ গ্রহণ কমে যাওয়া এবং খোলা বাজারে বিদ্যুৎ বিক্রির পরিমাণ হ্রাস পাওয়ায় উৎপাদন সক্ষমতার ব্যবহার হার (প্ল্যান্ট লোড ফ্যাক্টর) ৬৩ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে কমে ৬২ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
তৃতীয় প্রান্তিকে আদানির মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ১২ হাজার ৭১৭ কোটি রুপি, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৩ হাজার ৪৩৪ কোটি রুপি। আন্তর্জাতিক কয়লার দাম কম থাকায় দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির আওতায় বিদ্যুৎ সরবরাহের দর এবং খোলা বিদ্যুৎ বাজারে বিক্রির হার কম থাকায় রাজস্বে সামান্য চাপ তৈরি হয়েছে। তবুও কর-পূর্ব মুনাফা (ইবিআইটিডিএ) হয়েছে ৪ হাজার ৬৩৬ কোটি রুপি। গত অর্থবছরের এই সময়ে এটি ছিল ৪ হাজার ৭৮৬ কোটি রুপি, যা আয়ের স্থিতিশীলতার প্রতিফলন।
নানান প্রতিকূলতা সত্ত্বেও দীর্ঘমেয়াদি আয় বাড়াতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে আদানি পাওয়ারের। প্রতিষ্ঠানটি আসাম পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের কাছ থেকে আসামে ৩২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন একটি আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল তাপবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্রয় চুক্তির আওতায় লেটার অব অ্যাওয়ার্ড পেয়েছে।