হবিগঞ্জের মাধবপুরে র্যাব-৯ এর অভিযানে অপহৃত এক স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে। একই অভিযানে অপহরণ মামলার প্রধান আসামি সামিউল হক অনিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত সামিউল হক অনিক (২৫) ধর্মঘর ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামের মো. আলাউদ্দিনের ছেলে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে র্যাব-৯ সিলেটের মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
র্যাব জানায়, উদ্ধারকৃত স্কুলছাত্রী মাধবপুর উপজেলার ইসলামাবাদ এলাকার বাসিন্দা এবং জগদীশপুর জে.সি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী। অভিযুক্ত সামিউল হক অনিক ভিকটিমের পাশের বাসায় তার স্ত্রীসহ ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন। তিনি বিভিন্ন সময় ভিকটিমকে প্রেমের প্রস্তাব দেন। বিষয়টি ভিকটিমের পিতা জানতে পেরে বাধা দিলে অভিযুক্ত ক্ষিপ্ত হয়ে অপহরণের হুমকি দেন।
গত ১৮ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টার দিকে স্কুলে যাওয়ার পর ভিকটিম আর বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে ভিকটিমের পিতা জানতে পারেন, স্কুলে যাওয়ার পথে বাড়ির সামনের সড়ক থেকে সামিউল হক অনিক ও তার সহযোগীরা জোরপূর্বক একটি সিএনজিতে তুলে ভিকটিমকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় ভিকটিমের পিতা বাদী হয়ে মাধবপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯ এর শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের একটি দল বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫টায় শায়েস্তাগঞ্জ থানাধীন ওলিপুর বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাধবপুর থানার মামলা নম্বর-৩২ (তারিখ: ২৭/০১/২০২৬), ধারা—নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধিত/২০২৫) এর ৭/৩০ এর আওতায় এজাহারনামীয় প্রধান পলাতক আসামি সামিউল হক অনিককে গ্রেপ্তার করে এবং অপহৃত স্কুলছাত্রীকে উদ্ধার করে।
পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেপ্তারকৃত আসামি ও উদ্ধারকৃত ভিকটিমকে মাধবপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।