বিয়ে মানেই যৌন সম্পর্কের বাধ্যবাধকতা-এমন তথাকথিত দাম্পত্য কর্তব্যের ধারণার অবসান ঘটাতে আইন সংশোধনের পথে যাচ্ছে ফ্রান্স। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দেশটির জাতীয় পরিষদে অনুমোদিত একটি বিলের মাধ্যমে সিভিল কোডে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে বসবাসের মানেই যৌন সম্পর্কের বাধ্যবাধকতা নয়। একই সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক না থাকাকে আর দোষভিত্তিক তালাকের কারণ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না।
আইনটির সমর্থকদের মতে, এটি মূলত একটি প্রতীকী পদক্ষেপ হলেও এর মাধ্যমে আইনের অস্পষ্টতা দূর হবে এবং দাম্পত্য ধর্ষণকে উৎসাহিত করে এমন মানসিকতার বিরুদ্ধে বার্তা দেওয়া যাবে। বিলটির উদ্যোক্তা গ্রিন পার্টির সংসদ সদস্য মেরি-শার্লট গ্যারাঁ বলেন, বিয়ে কখনোই আজীবন যৌন সম্মতির ছাড়পত্র হতে পারে না।
এই আইন প্রস্তাব এসেছে ইউরোপীয় মানবাধিকার আদালতের ২০২৩ সালের এক রায়ের পর। ওই রায়ে ২০১৯ সালের একটি মামলার প্রেক্ষাপটে যৌন সম্পর্ক প্রত্যাখ্যানকে তালাকের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করায় ফ্রান্সের সমালোচনা করা হয়। এর আগে বিচারকরা 'সহবাস' ধারণাটিকে কখনো কখনো ব্যাপকভাবে ব্যাখ্যা করে যৌন সম্পর্কের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতেন, যদিও সিভিল কোডে এ ধরনের কোনো স্পষ্ট উল্লেখ ছিল না।
নারী অধিকারকর্মীরা বলছেন, দাম্পত্য জীবনে সম্মতি নিয়ে সমাজে যে ভ্রান্ত ধারণা এখনো রয়ে গেছে, তা চ্যালেঞ্জ করতেই এই সংস্কার জরুরি। ফ্রান্সে ১৯৯০ সাল থেকেই দাম্পত্য ধর্ষণ একটি অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত। পাশাপাশি গত বছর দেশটিতে ধর্ষণের আইনি সংজ্ঞা সংশোধন করে স্পষ্টভাবে সম্মতির অভাবকেই অপরাধের মূল ভিত্তি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।