টেনিসেও হ্যান্ডশেক বিতর্ক: হাত মেলাননি সাবালেঙ্কা-সিতোলিনা

ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট উত্তেজনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার টেনিসেও দেখা দিল ‘হ্যান্ডশেক বিতর্ক’। ২০২৬ অস্ট্রেলিয়ান ওপেন নারী একক সেমিফাইনালে আরিনা সাবালেঙ্কা ও এলিনা সভিতোলিনার মধ্যকার ম্যাচের পর করমর্দন না হওয়ায় বিশ্বজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার মেলবোর্নের রড লেভার অ্যারেনায় অনুষ্ঠিত ম্যাচের আগে বড় পর্দায় জানানো হয়, খেলোয়াড়দের মধ্যে কোনো হ্যান্ডশেক হবে না। সাধারণত ম্যাচের আগে খেলোয়াড়রা একে অপরের সঙ্গে করমর্দন করেন এবং ছবি তোলেন। কিন্তু এই ম্যাচে সেই রীতি মানা হয়নি।

ম্যাচে সাবালেঙ্কা সরাসরি সেটে ৬–২, ৬–৩ ব্যবধানে সভিতোলিনাকে হারিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের ফাইনালে জায়গা করে নেন। ফাইনালে তার প্রতিপক্ষ কাজাখস্তানের এলেনা রিবাকিনা। এর মাধ্যমে যেন ২০২৩ আসরের ফাইনালের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। ক্যারিয়ারের তৃতীয় অস্ট্রেলিয়ান ওপেন শিরোপার লক্ষ্য নিয়ে খেলবেন সাবালেঙ্কা।

কিন্তু দুজন কেন হ্যান্ডশেক করলেন না? সভিতোলিনা ইউক্রেনের নাগরিক, আর সাবালেঙ্কা বেলারুশের। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রয়েছে। সেই সময় থেকে ইউক্রেনীয় টেনিস খেলোয়াড়রা রাশিয়া ও বেলারুশের খেলোয়াড়দের সঙ্গে ম্যাচ-পূর্ব আনুষ্ঠানিকতা এড়িয়ে চলছেন। এই রাজনৈতিক বাস্তবতাই হ্যান্ডশেক না হওয়ার মূল কারণ।

এই উত্তেজনার প্রভাব ম্যাচেও দেখা যায়। এক পর্যায়ে ম্যাচ রেফারি সাবালেঙ্কার শব্দ করার অভিযোগ তুলেছিলেন, যা তার স্বাভাবিক খেলার ধরণ থেকে কিছুটা ভিন্ন বলে উল্লেখ করা হয়। ম্যাচ শেষে সভিতোলিনা বলেন, ‘ইউক্রেনে মানুষ ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমি খুব ভাগ্যবান যে এখানে খেলতে পারছি, নিজের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পারছি এবং মানুষের জন্য কথা বলতে পারছি। এটা আমাকে অনুপ্রাণিত করে।’

বর্তমান পরিস্থিতির কারণে রাশিয়া ও বেলারুশের খেলোয়াড়রা নিজ দেশের পতাকা বহন করতে পারছেন না। তারা দেশ-নিরপেক্ষ হিসেবে প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। যদিও ইউক্রেনীয় খেলোয়াড়দের করমর্দন না করার বিষয়টি নতুন নয়, তবে গ্র্যান্ড স্ল্যামের মতো বড় মঞ্চে সেমিফাইনালের মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এমন ঘটনা বিশ্বজুড়ে নতুন করে আলোচনায় এসেছে।