আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহী সেক্টরে প্রায় ৪ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। রাজশাহী সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সৈয়দ কামাল হোসেন এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, নির্বাচনকালীন সময়ে সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, বিজিবি ও বিএসএফ সমন্বয় করে কাজ করছে। সীমান্তে নিরাপত্তায় বিএসএফ প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
বিজিবি মোতায়েন উপলক্ষে শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে নগরীর পোস্টাল একাডেমির সামনে একটি মহড়ার আয়োজন করে। তারা বেশ কিছু যানবাহনে তল্লাশী চালায়। পরে সেখানে সাংবাদিকদের সামনে ব্রিফিং করেন বিজিবি রাজশাহী সেক্টর কমান্ডার কর্নেল সৈয়দ কামাল হোসেন। তিনি জানান একটি পেশাদার, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও নিরপেক্ষ বাহিনী হিসেবে বিজিবি নির্বাচনকালীন সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জনগণের ভোটাধিকার সুরক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।
নির্বাচন কমিশন ও সরকারের সব নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করে বিজিবি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করবে, যাতে ভোটাররা নিরাপদ, শান্ত ও ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।
তিনি জানান, রাজশাহী সেক্টরের আওতাধীন রাজশাহী বিভাগের সাতটি জেলার (রাজশাহী বিভাগের জয়পুরহাট ব্যতীত) মোট ৩৭টি সংসদীয় আসনে বিজিবির ৬৫টি বেস ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। সীমান্তের ৭৬টি বিওপি থেকে প্রতি বিওপিতে ১০ জন করে সদস্য স্ট্রাইকিং ফোর্স রিজার্ভ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সব মিলিয়ে রাজশাহী বিভাগে প্রায় ৪ হাজার বিজিবি সদস্য মোতায়েনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
কর্নেল সৈয়দ কামাল হোসেন বলেন, সীমান্তবর্তী ও ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলো ইতোমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব এলাকায় সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এলাকায় দুটি আধুনিক এপিসিসহ এক প্লাটুন বিজিবি কুইক রিঅ্যাকশন ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত থাকবে।
নির্বাচন উপলক্ষে সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। চোরাচালান, মাদক ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ড্রোন, নাইট ভিশন ডিভাইস, থার্মাল ইমেজিং ক্যামেরা, ডিজিটাল মনিটরিং ও অডিও ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। পদ্মা ও মহানন্দা নদীতে ১৫টির বেশি স্পিডবোট ও ফাস্ট পেট্রোল ক্রাফট দিয়ে দিন-রাত নৌ টহল চালানো হবে। একই সঙ্গে শতাধিক স্থানে স্থায়ী ও অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম চলছে।
কামাল হোসেন বলেন, নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ, সমন্বিত টহল ও পতাকা বৈঠক চলছে। বিএসএফ তাদের পক্ষ থেকে নজরদারি জোরদারের আশ্বাস দিয়েছে।