ইসি সানাউল্লাহ

গণভোটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কোনো পক্ষে থাকবে না

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ শুক্রবার জানান, আগামী গণভোটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জনগণকে অবহিত ও সচেতন করতে পারবেন, তবে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-এর পক্ষে ভোটের ব্যাপারে কোন অবস্থান নিতে পারবেন না।

‘গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫’-এর ২১ নম্বর ধারা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, সাধারণ নির্বাচনের জন্য যা কিছু লঙ্ঘন, গণভোটের জন্যও তা লঙ্ঘন বলে গণ্য হবে। সাধারণ নির্বাচনের মতো গণভোটেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোন পক্ষ অবলম্বন করে প্রচার-প্রচারণার সুযোগ নেই বলে তিনি উল্লেখ করেন।

নির্বাচনে পটুয়াখালী জেলার প্রস্তুতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, নির্বাচনের আর মাত্র ১২ দিন বাকি। আমরা এখানকার প্রস্তুতি দেখে সন্তুষ্ট, আমি ব্যক্তিগতভাবে সন্তুষ্ট। আমি অত্যন্ত আশাবাদী, ইনশাল্লাহ পটুয়াখালীতে খুব ভালো নির্বাচন হবে।

নির্বাচনে ভোটের হারের বিষয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন কোন শতাংশের ওপর নির্ভর করে না। আমরা তো চাই শতভাগ মানুষ ভোটকেন্দ্রে আসুক এবং আমরা সহায়ক পরিবেশ তৈরি করেছি। আমরা আশাবাদী মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে।

দেশব্যাপী নির্বাচনের পরিবেশ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার বলেন, নির্বাচনে সার্বিকভাবে যে পরিবেশ থাকে, এবারে তা ভালো বৈ মন্দ নয়, এটা হলো আমাদের সামগ্রিক মূল্যায়ন। কিছু ঘটনা যে ঘটছে না, তা নয়-এগুলো না ঘটলে আরও ভালো হতো। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সময় কিছু শব্দচয়ন হয়, সমর্থকদের মধ্যে কিছু উৎসাহ কাজ করে-এগুলো যাতে সীমিত পর্যায়ে থাকে, সবাই যাতে পরিমিত বোধের মধ্যে কাজ করে, এটাই আমাদের বার্তা।

এলাকাভিত্তিক সম্প্রীতি রক্ষার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা চাই না যে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমাদের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হোক। আমরা এই সমাজেই বাস করব, নির্বাচনের পরেও।

নির্বাচন কমিশনের নতুন কোন চ্যালেঞ্জ আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের নতুন কোনো চ্যালেঞ্জ নেই। আমাদের প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্যই হচ্ছে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠান করা-দীর্ঘ খরার পর। ইনশাল্লাহ সে পথে আমরা হাঁটছি এবং এটা হবে।

এ সময় পটুয়াখালীর জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী, পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ, জেলার বিভিন্ন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।