বিএনপির বিরুদ্ধে জামায়াতের প্রচারণায় বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ

ভোলা-২ আসনের বোরহানউদ্দিন উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর প্রচারণায় বাঁধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

আজ শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার বড় মানিকা, টবগী ও গঙ্গাপুর ইউনিয়নে জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা প্রচারণায় গেলে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা তাদেরকে বাঁধা দেয়। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা ও উত্তেজনা তৈরি হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নে জামায়াতের নারী কর্মীদেরকেও বাঁধা দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন জামায়াতে ইসলামী। তবে বিএনপির পক্ষ থেকে এ সকল অভিযোগ মিথ্যা দাবি করা হয়।

ভোলা-২ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রচার বিভাগের সেক্রেটারি মো. আমানুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভোলা-২ আসনের জামায়াতে ইসলামী সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতি ফজলুল করিমের নির্বাচনী কার্যক্রমে গত কয়েকদিন ধরে স্থানীয় বিএনপি নামধারী কিছু লোকজন অব্যাহতভাবে বাধা ও হামলা চালানো হচ্ছে।
এর মধ্যে শুক্রবার উপজেলার বড় মানিকা ইউনিয়নে ৮নম্বর ওয়ার্ডে নির্বাচনী প্রচারণা কালে আলাউদ্দিন নামে এক আওয়ামী লীগ কর্মী বিএনপির নাম ভাঙিয়ে ‘দাঁড়িপাল্লা’ প্রতীকের প্রচারণায় সরাসরি বাধা প্রদান করেন।

একই সময়ে গঙ্গাপুর ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ডের জয়া বাজার ও চৌরাস্তা এলাকায় জামায়াতের গণসংযোগে বিএনপির কর্মীরা ব্যাপক বাধার সৃষ্টি করেছে। সেখানে বর্তমানে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে।
একইভাবে বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে কাচিয়া ইউনিয়ন ২নম্বর ওয়ার্ডের মকবুল মালের বাড়ির জামশেদ মাল ও বাহাদুর মাল জামায়াতের প্রচারণার কাজে নিয়োজিত মহিলা কর্মীদের পথে পথে হেনস্থা ও চরম অসদাচরণ করছে। যা মা-বোনদের নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী।

উপজেলার টবগী ইউনিয়নের ৩নম্বর ওয়ার্ডের দেলোয়ার হোসেন মৃধা বাড়িতে গণসংযোগের সময় বিএনপি কর্মী পরিচয়ধারী সুমন জামায়াতের কর্মীদের বাড়িতে ঢুকতে বাধা প্রদান করেছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরো অভিযোগ করা হয়, ভোলা-২ আসনে বিএনপির কিছু অতি উৎসাহী নেতাকর্মী ও তাদের কাঁধে ভর করা আওয়ামী দোসররা নির্বাচনী পরিবেশ কলুষিত করছে। তারা জামায়াতের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে পেশিশক্তি ব্যবহার করছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের কাছে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার দাবি জানায় জামায়াতে ইসলামী।

বোরহানউদ্দিন উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মাওলানা মাকসুদুর রহমান জানান, এ সকল ঘটনায় রিটার্নিং ও সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। 

তবে এ সকল অভিযোগ মিথ্যা দাবি করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আল এমরান খোকন জানান, শুক্রবার সকালে পক্ষিয়া ইউনিয়নের স্থানীয় এক বিএনপির কর্মীর সাথে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে জামায়াতের কর্মীদের সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে। এছাড়া আর কোথাও কোনো ধরনের ঘটনা ঘটেনি।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, জামায়াতে ইসলামী আওয়ামী লীগের সাথে ভর করে নির্বাচনী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা ইচ্ছাকৃতভাবে পায়ে পাড়া দিয়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথে ঝামেলা সৃষ্টি করে নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার পায়তারা করছেন। তাদেরকে বিএনপির কোনো নেতাকর্মী প্রচারণায় বাঁধা দেয়নি। তারা শুধু শুধু বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে।