ভোলার চরফ্যাশনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীকে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দেয়া বিএনপি নেতা খায়রুল ইসলাম সোহেলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) রাতে ভোলা-৪ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি এবং সিভিল জজ মো. রাকিব মাহমুদ এ নোটিশ দেন। অভিযুক্ত সোহেল চরফ্যাশন পৌরসভা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
গত শুক্রবার সকাল থেকেই জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীকে বেশী বাড়াবাড়ি করলে নির্বাচনের দুই দিন আগে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দেয়া একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরে। পরে এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. মোস্তফা কামাল নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির নিকট লিখিত অভিযোগ দেন।
নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশে উল্লেখ করা হয়, গত ২৯ জানুয়ারি চরফ্যাশন পৌরসভার ৮নম্বর ওয়ার্ডে ছাত্তার মিয়ার বাড়ির উঠান বৈঠকে বিএনপি নেতা খাইরুল ইসলাম সোহেল ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে বক্তব্য দেয়ার সময় দাড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর নাম উল্লেখ করে বলেন যে ‘উনি যদি নির্বাচনে বেশি বাড়াবাড়ি করেন তবে নির্বাচনের দুই দিন আগে উক্ত প্রার্থীকে চরফ্যাশনে রাখবেন না’ এমন হুমকি দেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম হতে প্রাপ্ত উক্ত উঠান বৈঠকের ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করলে তার উক্ত বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া যায়। ঘটনাটি সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫ এর বিধি ১৫ (ক) ভঙ্গ বলে প্রতীয়মান হয়।
এ অভিযোগের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জন্য, তার (সোহেলের) লিখিত বা মৌখিক ব্যাখ্যা আগামী ০৩ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার দুপুর ৩টার মধ্যে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ আদালত, চরফ্যাশন চৌকি, ভোলা এর অস্থায়ী কার্যালয়ে স্বয়ং অথবা উপযুক্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে হাজির হয়ে দেওয়া জন্য নির্দেশ দেয়া হয়।
৫৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে এক উঠান বৈঠকে বক্তব্য দিতে গিয়ে সোহেল জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোাহম্মদ মোস্তফা কামাল ও তার পরিবারকে উদ্দেশ করে বলতে শুনা যায়, ‘মোস্তফা কামালের বাড়ি এওয়াজপুর। তার বাড়ির দুইটা রাস্তা, একটা দিয়ে সে চলে আরেকটা দিয়ে তার ভাইয়েরা চলে। ভাইদের সাথে বনাবনি নাই। সেই কেন্দ্রে ভোটের দিন ৫টার সময় খবর নিবেন যদি বিএনপির থেকে বেশী ভোট পায় তাহলে তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত হবে না। সবচেয়ে কম ভোট পায়, তাহলে কি মনে করবেন সারা চরফ্যাশনে তার আর ভোট আছে? ইনশাআল্লাহ নাই। কোনো যায়গায় নাই। আপনারা যাদি ভোটের দিন ফজরের নামাজ পড়ে সকাল ৭টা থেকেই আপনারা কেন্দ্রে গিয়ে লাইন দেন তারা যে বলে আগে গিয়া লাইন দিয়া খারাইবো এক মিনিট টিকার শক্তি আছে আমাদের সাথে? ইনশাআল্লাহ নাই। আর নির্বাচনের দুই দিন আগে যদি বেশি বাড়াবাড়ি করে চরফ্যাশনে রাখুম না ইনশাআল্লাহ নিশ্চিত থাকেন।’ এ বক্তব্য দেয়ার সময় তার পাশে চরফ্যাশন উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন আলমগীর মালতিয়া ও উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব জাহিদুল ইসলাম রাসেলসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা বসা ছিলেন।
এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল জানান, তিনি বিষয়টি নির্বাচন অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এ ধরনের বক্তব্যে তারা আতঙ্কিত এবং বিষয়টি রিটার্নিং কর্মকর্তাকেও অবহিত করা হয়েছে।
বিএনপি নেতা খায়রুল ইসলাম সোহেল জানান, তিনি এখনো নোটিশ হাতে পাননি। তবে তিনি দাবি করেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী রাজনৈতিক মাঠে দেওয়া তার বক্তব্যকে ভিন্নভাবে উপস্থান করে অভিযোগ দিয়েছেন।