৪০০ কোটি টাকার কেনাবেচা

শেষ হলো ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০তম আসর। মাসব্যাপী এই মেলায় প্রায় ৪০০ কোটি টাকার কেনাবেচা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে অংশগ্রহণকারী কোম্পানিগুলোর কাছে মেলা থেকে ২২৪ কোটি ২৬ লাখ টাকার রপ্তানি আদেশ এসেছে বলে জানা গেছে।

গতকাল শনিবার ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়। পূর্বাচলের বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনসহ এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রপ্তানি) মো. আবদুর রহিম খান এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ উপস্থিত ছিলেন।

এবারের মেলায় আনুমানিক ৩৯৩ কোটি টাকা মূল্যের পণ্যসামগ্রীর (রেস্তোরাঁসহ) কেনাবেচা হয়েছে, যা গত বছরের চেয়ে ৩ দশমিক ৪২ শতাংশ বেশি। বিভিন্ন দেশ থেকে ২২৪ কোটি ২৬ লাখ টাকার রপ্তানি আদেশ এসেছে। যেসব দেশ থেকে রপ্তানি আদেশ পাওয়া গেছে, তার মধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, সিঙ্গাপুর, হংকং, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া ও তুরস্ক। যেসব খাতের পণ্য রপ্তানির আদেশ পাওয়া গেছে, তার মধ্যে বহুমুখী পাটপণ্য, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিকস, হোম অ্যাপলায়েন্স, কসমেটিকস, হাইজিন পণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, হ্যান্ডলুম, তৈজসপত্র, হোম টেক্সটাইল, নকশিকাঁথা ও ফেব্রিকস উল্লেখযোগ্য।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, এবারের মেলায় দেশি-বিদেশি ৩২৯টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করেছিল। যার মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, হংকং ও মালয়েশিয়ার ১১টি প্রতিষ্ঠান এতে অংশগ্রহণ করছে। মেলায় কটেজ, মাইক্রো, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও ভারীশিল্পের অন্তর্ভুক্ত অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পোশাক, চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য, ফার্নিচার, ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিকস পণ্য, কসমেটিকস, গৃহসজ্জা, খেলনা, স্টেশনারিজ, হোম ডেকর, ক্রোকারিজ, হস্তশিল্পজাত পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য, মেলামাইন, হারবাল ও টয়লেট্রিজ, ইমিটেশন জুয়েলারি, রিয়েল এস্টেট শিল্পের পণ্য, সেবাসহ ফাস্টফুড ও নানা সেবাসামগ্রী প্রদর্শিত ও বিক্রি হয়েছে।

এবারের মেলায় নতুন এবং আকর্ষণীয় পণ্যগুলোর মধ্যে ছিল বাঁশের তৈরি ওয়ালটপ, বাস্কেটপণ্য, কাপ্তাই লেকের রুই মাছের চিপস, রোজেলা চা, অর্গানিক হেয়ার ওয়েল, ভেজিটেবল ডাইংয়ের পোশাক, ঢাকাই মসলিন শাড়ি ও মসলিন স্কার্ফ, পাটের আর্টিফিশিয়াল ফুল, বিভিন্ন ফ্লেভারের ফ্রোজেন বিরিয়ানিসহ বেশ কয়েকটি পণ্য।

মেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন ক্যাটাগরির সেরা প্যাভিলিয়ন, স্টল ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দেওয়ার মাধ্যমে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। নির্মাণ কাঠামো, স্থাপত্য সৌন্দর্য ও অঙ্গসজ্জা/অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা, পণ্য প্রদর্শন এবং ক্রেতা ও দর্শক সেবার মান এবং ক্রেতার সন্তুষ্টি, বরাদ্দপত্রের শর্তাবলি প্রতিপালন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন, ডিজিটাল কনটেন্ট ও রপ্তানিকারক/পণ্য উৎপাদনকারী হিসেবে অবদান এবং ইনোভেশন ইত্যাদি নির্ণায়ক বিবেচনায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে ৪০টি প্রতিষ্ঠানকে শ্রেষ্ঠ হিসেবে মনোনীত করা হয়। বাণিজ্য উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতিনিধির হাতে সম্মাননা তুলে দেন।