কিংবদন্তি আফ্রোবিট সংগীতের পথিকৃৎ ফেলা আনিকুলাপো কুটি গ্র্যামি লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড পাওয়া প্রথম আফ্রিকান শিল্পী হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। তিনিই প্রথম আফ্রিকান শিল্পী, যিনি এই মর্যাদাপূর্ণ সম্মাননায় ভূষিত হলেন।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) মৃত্যুর তিন দশকেরও বেশি সময় পর যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে তাকে এই সম্মাননা দেওয়া হয়। ৬৮তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের আগের দিন এ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
প্রতিষ্ঠানবিরোধী ও রাজনৈতিকভাবে সরব এক শিল্পী হিসেবে পরিচিত নাইজেরীয় এই সংগীতজ্ঞ ও সমাজকর্মীকে তার বৈপ্লবিক সংগীতধারা ও সাংস্কৃতিক প্রভাবের জন্য স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ফেলাকুটির পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনরা এই সম্মাননায় সন্তোষ প্রকাশ করলেও স্বীকার করেছেন, জীবদ্দশায় কখনো গ্র্যামির জন্য মনোনয়ন না পাওয়া এই শিল্পীর স্বীকৃতি এসেছে অনেক দেরিতে।
১৯৩৮ সালে জন্ম নেওয়া ফেলাকুটি আফ্রিকান সংগীতের ছন্দকে জ্যাজ, ফাঙ্ক ও সোলের সঙ্গে মিলিয়ে আফ্রোবিট ধারার জন্ম দেন। তার সংগীত পরবর্তী প্রজন্মের অসংখ্য শিল্পীকে প্রভাবিত করেছে এবং আধুনিক আফ্রোবিটস সংগীতের ভিত্তি তৈরি করেছে। সংগীতের বাইরে তিনি নাইজেরিয়ায় দুর্নীতি, সামরিক শাসন ও সামাজিক অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার কণ্ঠ ছিলেন, যার কারণে তাকে বারবার গ্রেপ্তার ও রাষ্ট্রীয় নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।
পরিবারের সদস্যদের মতে, পুরস্কারপ্রাপ্তি হয়তো ফেলাকুটির কাছে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ হতো না। তবে তারা বিশ্বাস করেন, এই গ্র্যামি সম্মান আফ্রিকার শিল্প ও বুদ্ধিবৃত্তিক অবদানের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তার সংগীত, দর্শন এবং লাগোসের নিউ আফ্রিকা শ্রাইনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বার্ষিক 'ফেলাব্রেশন' উৎসবের মাধ্যমে ফেলাকুটির উত্তরাধিকার আজও বেঁচে আছে।