পদ্মার ভাঙনে পাটুরিয়ার ৩ থেকে ৫ নম্বর ঘাট পর্যন্ত বিলীন হয়। ২০২৫ সালের আগস্টে এই ভাঙনের কারণে ৫ নম্বর ঘাটের কাছে দক্ষিণে বড়রিয়া গ্রামের অনন্ত ২০টি বাড়ি নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে সেখানে অনন্ত ৪০ ফুট গভীরতা সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানিকগঞ্জের শিবালয়ে পাটুরিয়া ঘাট ও পার্শ্ববর্তী এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক (ডিসি) নাজমুন আরা সুলতানা।
শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তিনি ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন এবং ভাঙন পরিস্থিতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
এসময় জেলা প্রশাসক বলেন, পাটুরিয়া ঘাট এলাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ভাঙন রোধে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং আগামী বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই প্রয়োজনীয় মেরামত ও সংরক্ষণ কাজ শুরু করা হবে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান জানান, পাটুরিয়া ৫ নম্বর ঘাটের দক্ষিণপাশে ক্ষতিগ্রস্ত নদীতীর সংরক্ষণ ও মেরামতের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ৩০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ঘাট রক্ষায় পৃথকভাবে ২০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের অনুমোদন শুরুর পথে।
অপরদিকে, আগামী বর্ষার আগে ভাঙনরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে ২৯ জানুয়ারি এলাকাবাসী মানববন্ধর কর্মসূচি পালন করে। পরে শিবালয় ইউএনও মনিষা রানী কর্মকার ঘটনাস্থলে গিয়ে ভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বিভাগীয় প্রকল্প চলমান এই কথা জানালে কর্মসূচি পালনকারীরা আশ্বস্থ হন। তিনি ঘাট রক্ষায় বাস্তব পদক্ষেপ নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করলে শনিবার বিভাগীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম, পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, আরিচা বিদ্যুৎ জিএমডি প্রকৌশলী দেওয়ান গিয়াস উদ্দিন, বিআইডব্লিটিসি মেরিন প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন, এসি-ল্যান্ড জান্নাতুল নাইম, ওসি মনির হোসেন প্রমুখ।