বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিগত ১৫ বছর ধরে এ দেশের মানুষের সঙ্গে শুধু ভাঁওতাবাজি করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেনি, নিজের ভোট নিজে দিতে পারেনি। দীর্ঘ আন্দোলন আর অসংখ্য প্রাণের বিনিময়ে আজ আল্লাহ আমাদের ভোট দেওয়ার একটি সুযোগ করে দিয়েছেন। আমাদের এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরিবর্তনের পক্ষে দাঁড়াতে হবে।
আজ রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা ভোট দিই কেন? আমরা ভাবি নতুন সরকার আসবে, এলাকার উন্নয়ন করবে। কিন্তু বাংলাদেশের ভাগ্য খারাপ, গত তিনটা টার্ম মানুষ ঠিকমতো ভোটই দিতে পারেনি। আমাদের ছেলেরা আন্দোলন করেছে, অনেকে শহীদ হয়েছে। তাদের রক্তের বিনিময়ে আজ আমরা একটি পরিবেশ পাওয়ার আশা করছি। এবারের নির্বাচনে আমরা সবাই দলবেঁধে গিয়ে পছন্দের প্রার্থী ও দলকে ভোট দেব।
সদ্য প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেইমানি করেননি, মানুষের অধিকারের কথা বলতে গিয়ে বছরের পর বছর জেল খেটেছেন। জেল থেকে বের হয়ে তিনি প্রতিশোধের রাজনীতি নয়, বরং দেশ গড়ার ডাক দিয়েছিলেন। আমরা সেই পথেই হাঁটছি।
এ সময় তিনি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের অভয় দিয়ে বলেন, আপনারা এ দেশের নাগরিক, আপনাদের নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। ভোট নিয়ে কোনো ভয় পাবেন না, আমরা শক্ত হাতে সব গোলযোগ দমন করব।
সাধারণ মানুষের আর্থিক কষ্টের কথা চিন্তা করে মির্জা ফখরুল বিএনপির কয়েকটি কর্মসূচির কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, আমরা মা-বোনদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করব। এই কার্ড দিয়ে পরিবারের প্রধান নারী ন্যায্যমূল্যে চাল, ডাল, তেল ও লবণ কিনতে পারবেন। এছাড়া চিকিৎসা ও সন্তানদের স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে সার, বীজ ও পানির সমস্যা সমাধান করা হবে।
কৃষক ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ঋণের বোঝা লাঘব করতে বিএনপি মহাসচিব বড় ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, সরকার গঠন করতে পারলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদসহ মাফ করে দেওয়া হবে। এছাড়া আমাদের মা-বোনেরা এনজিওর কিস্তি নিয়ে যে কষ্টের মধ্যে থাকেন, সেই ঋণের দায়িত্ব তারেক রহমান সাহেব নিয়েছেন। সরকার সেই ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা করবে।’
যুবসমাজের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, বেকারত্ব দূর করতে আগামী ১৮ মাসে ১ কোটি চাকরির ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বিএনপি।
নিজের বয়স ও দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘হয়তো এটাই আমার শেষ ভোট। আমি নির্বাচিত হলে আপনাদের কোনো চাকরির জন্য বা কাজের জন্য কাউকে এক পয়সা টাকা দিতে হবে না। আমরা সব ধরনের সন্ত্রাস ও দুর্নীতি বন্ধ করব। ঠাকুরগাঁওয়ে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা হবে যাতে স্থানীয়ভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়।’
পরিশেষে ১৫ ফেব্রুয়ারি ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিয়ে দেশ গড়ার সুযোগ দেওয়ার জন্য তিনি উপস্থিত সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।